আজ : ১২:০০, জুলাই ৫ , ২০২০, ২১ আষাঢ়, ১৪২৭
শিরোনাম :

লন্ডনে বাংলাদেশি হাই কমিশন এক বিশাল বিবর্তন::ইমরান চৌধুরী

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:১১:৫৩, এপ্রিল ২১ , ২০১৯
photo


লন্ডন প্রবাসী বাঙ্গালিদের অতি প্রয়োজনীয় একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি হাই কমিশন । প্রায় ৮ লক্ষাধিক বাঙ্গালীর অভিবাসীর ৬০%ই বসবাস করে লন্ডন এবং দক্ষিণ পূর্ব ইংল্যান্ডে। এই বিশাল জনগুষ্ঠি সৌদি আরবের পড়েই দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আসছে যুগ যুগ ধরে ।
লন্ডন (বিলাত) সকল বাংলাদেশিদের এক স্বপ্নের শহর । সেই ১৬০০ সাল থেকেই আমাদের পুরানো বেঙ্গল ইংল্যান্ড এবং গ্রেট ব্রিটেনের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য, আমদানি রপ্তানি সহ জনসম্পদ আদান প্রদানে চলে আসছে । ১৭৭০ সালে বেঙ্গল এই ব্রিটেনে ৮০০ লক্ষ টন স্যূতি কাপড় রফতানি করতো লাঙ্কাশাআইরে তাদের শিল্প বিপ্লব কালীন টেক্সটাইল মিল গড়ে উঠার ও একশ বছর আগে আমরা তাদের কটন এর চাহিদা পুড়ন করতাম বাংলার হস্তলুমে বানানো সেই খাদি এবং খদ্দর বানিয়ে ।
সেই ইতিহাসের পথ ধরে উপনিবেশিক বেঙ্গল আজ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ । পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আপন মহিমায় । উন্নয়নের এক প্রকৃষ্ট উদাহারন আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ । ১৯৫০ সালের প্রারাম্ভ থেকেই অধুনালপ্ত ইস্ট পাকিস্তান থেকে বর্তমান বাংলাদেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী ক্রমে ক্রমে ঘর বাধা শুরু করেছে আর আমারা গ্রেট ব্রিটেন এ মোট ৮ লক্ষাধিক বাংলাদেশী বসবাস করছি আর এই বাংলাদেশি জনগণের একমাত্র সরকারী কার্যালয় ই আমাদের হাই কমিশন । আমাদের প্রবাসী জনগণের দেশের সাথে কর্মকাণ্ডের একমাত্র সেতুই হল আমাদের সবার প্রিয় এবং প্রয়োজনীয় হাই কমিশন।

আমার ৩০ বছরের প্রবাস জীবনে সারাটা সময় ই দুর থেকে পত্রিকা, রেডিওতে, টেলিভিশনে, মুখরোচক গল্প ও গুজুবে সব সময়ই কেমন জানি একটা বৈমাতৃত্ব সুলভ একটা সম্পর্ক প্রতীয়মান হবার আশঙ্কা অনুধাবন করেছি । অনেক সময় পত্রিকা গুলোতে ও পড়েছি অনেক তিক্ততার গল্প । সব সময় যে সব কিছু সত্য তা সঠিক মনে হতো না – কিন্তু সর্ব সাকুল্যে হাই কমিশন এর কর্মকাণ্ড এবং কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়েও অনেক কথা দুর থেকে কর্ণগোচর হত প্রায়শঃ ।
পেশাদার কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক কিংবা অভিবাসীদের মধ্যে সব সময়েই উপলব্ধি হত এক ধরনের বৈরিতা। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবস ও অন্যান্য অনুষ্ঠান গুলো লাগতো কেমন যেন দায়সারা গোছের । ছোট্ট একটা অনুষ্ঠান রুমে মাত্রারিক্ত মেহমান দের আগমনে তিল ধারণের ঠাই হতো না – অতঃপর সিলভার ফয়েল কন্টেনারে এক কন্টেনার চিকেন বিরয়ানী জাতীয় শুখনো, হাড্ডি ঠাণ্ডা, শুষ্ক একটা বাক্স ধরিয়ে দেওয়া হতো অভ্যাগত অতিথিদের । না থাকত কোন পানিও বা ঝোল বা প্লেট কিংবা চামচ অথবা টিস্যু – খেয়ে দেয়ে কালো ডাস্টবিন ব্যাগে কন্টেনার ঢুকিয়ে বিদায় নেওয়া টাই কেমন যেন রেওয়াজে পরিণীত হয়ে গিয়েছিল যুগ যুগ ধরে ।
ক্যান জানি মনে হতো – আদৌই উহা কি ছিল দৈনতা নাকি সদিচ্ছার অভাব?
কমউনিটি এর সাথে কোন কর্মচারীর আচরণ কখনোই সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল বলে প্রতিয়মান হতো না । পাসপোর্ট, নো ভিসা, পাওয়ার অফ এটর্নি এবং অন্যান্য সকল প্রকার কনসুলার কর্মকাণ্ডেই ছিল গাফিলতি এবং ওয়েয আরনার বা ট্যাক্স প্রদানকারীদের প্রতি উপনিবেশিক বাবুদের মত আচরণের অনুযোগ ।


কিন্তু, আজ যেন ঐসবের কবর রচনা করে হাই কমিশনের আকাশে উজ্জীবিত হয়েছে এক নতুন সূর্যের । ইংরেজিতে যাকে নাকি বলে ‘’ ওশন চেঞ্জ ‘’। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে বর্তমান হাই কমিশনের ইমেজ আমার দৃষ্টিতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ । কি যে অভূতপূর্ব পরিবতন, পরিবর্ধন, আপ্যায়ন, মান ও গুনগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এই অল্প কয়েক মাসের বব্যধানে সেটা লেখতে গেলে কয়েক দিস্তা কাগজে লিখেও শেষ করে যাবে বলে মনে হয় না । এ যেন বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে আমাদেরই প্রিয় হাই কমিশনে । কন্সুলার সার্ভিস, টেলিফোন এ আলাপন, কমউনিটি রিলেশন, পি আর এবং আপ্যায়ন এর মান ও গুনগত পরিবর্তন একেবারে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আমার মত অনেক গঠনমুখী সমলোচক ও নিন্দুকদেরকে সমভাবে । আ’ লা’ কার্টে মেনয়ু, তিন থেকে চার কোর্স সিলভার সার্ভিস ডিনার, অফুরন্ত মুখরোচক খাবার, তা’ ডিনার ই হউক, বা বুফএ কিংবা ফিঙ্গার কেনেপিস ই হউক না কেন । বাক্তিগত ভাবে সকল কূটনৈতিকদের দ্বারা আপ্যায়িত হওয়া থেকে শুরু করে – নিজের হাঁতে সারভ করতো; বর্তমান কর্মকর্তারা জয় করে নিয়েছে সম্পূর্ণ কমুইনিটিকে – এটা আমার প্রগলভতা বা চাটুকারিতা নয় এটা কমুনিটির সকলের মনের কথা। যা প্রকাশ করতে আমি এক মুহূর্তও দ্বিধান্বিত নয় । যারা আমাকে চিনে তারা এক বাক্যে স্বীকার করবে যে আমি যা বলি বা লিখি তা আমি অত্যন্ত আবেগতারিত হয়ে মনের ভিতর থেকে আসা বাক্য দিয়েই প্রকাশ করে থাকি সর্বদা ।

কূটনৈতিক দিক থেকে ও বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং আমাদের নতুন এবং প্রথম মহিলা হাই কমিশনার একজন দক্ষ এবং অত্যন্ত পারদর্শী কূটনৈতিক হিসেবে নিজেকে অতি অল্প সময়েই কূটনৈতিক, ব্রিটিশ সরকার, হাউজ অফ কমন্সে ও অন্যান্য বিভিন্ন কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশ সহ সকল মহলে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন অত্যন্ত দৃঢ় ভাবে । ব্রিটিশ এম পি, মিনিস্টার ও সেক্রেটারি অফ স্টেটস মুখেও আমি নিজে শুনেছি ওনার জয় জয়গান । এত অল্প সময়ে যিনি এখনও মহামান্য রাণী’র সন্নিকটে তার ক্রেডেন্স (আমাদের দেশের রাষ্ট্র প্রধান দ্বারা তাঁহাকে এই দেশের কূটনৈতিক দূত হিসেবে নিয়োগের রাষ্ট্রীয় ফরমান) এখনো প্রদান করেন নাই – অথচ ইতিমধ্যেই উনি লন্ডন তথা ইউরোপের কূটনৈতিক মহলে অতি পরিচিত । আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রদের লন্ডনস্থ মিশনে সে একজন সমাদৃত অতিথি হিশেবে গণ্য । এক সপ্তাহে দুই দুই জন ব্রিটিশ এম পি আমাকে তার সাথে সাক্ষাত এবং উনার সম্পর্কে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী মন্তব্য করেছেন, যাহা কর্ণগত হওয়ায় আমি যে কি পরিমাণ গর্ববোধ করেছি তা ভাষায় প্রকাশে আমি অপারগ। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশি নাড়ীদের এই এম্পওারমেন্ট যে কি গর্বের তা আমি একজন কর্মজীবী সরকারী চাকরিজীবী মায়ের সন্তান হিসেবে জানি এটা যে কত গর্ব করার বিষয় । আর এই এম্পওারমেন্ট এর একমাত্র রূপকার আমাদের শ্রদ্ধেয় জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা আমাদের মহামান্য প্রধানমন্ত্রী । তাঁকে জানাই আমার শ্রদ্ধেয় প্রণাম।


পরিশেষে, ইউ কে প্রবাসী বাংলাদেশি কমুইনিটি এবং বর্তমান হাই কমিশনের আই নব্য রচিত সেতু বন্ধন যেন অটুট থাকে এবং আমাদের এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সাথে গড়ে উঠা এই সৌহার্দ্য সম্পর্ক যেন আগামী দিন গুলোতে আরও সুদৃঢ় হয় ।

বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডন কে জানাই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। তাঁদের উত্তর উত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি । আমাদের সকলের নাগরিক দায়িত্ব এবং কূটনৈতিকদের কর্তব্যের এই সুন্দর বন্ধন যেন বজায় থাকে সর্বদা।

( ইমরান আহমেদ চৌধুরী বৃিটেনের বাংলাদেশী কমউনিটিতে সুপরিচিত মুখ, এছাড়া তার অন্য একটি পরিচয় রয়েছে তিনি একজন সাবেক সেনা অফিসার এবং মুক্তমনের লেখক সমালোচক।)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

Prime Minister Sheikh Hasina is delivering post-Covid public health services

photo Ansar Ahmed Ullah::”Under the prudent and visionary leadership of Prime Minister Sheikh Hasina, Bangladesh is delivering public health services and humanitarian emergency aide to our people's door step, utilizing ‘GovTech’ and ‘DevTech’ under her ‘Digital Bangladesh’ vision'', said Bangladesh High Commissioner Saida Muna Tasneem at the virtual Commonwealth Leaders meeting on the COVID-19 crisis earlier this week. Presidents, Prime Ministers and Foreign Ministers of 30 Commonwealth member countries including Nigeria, Kenya, Belize, Bahamas, Uganda, Tanzania, Guyana, and the Gambia attended the meeting. High Commissioner Tasneem was speaking at the virtual Commonwealth Leaders meeting as a representative of Prime Minister of Bangladesh. She briefed the Commonwealth leaders about Prime Minister Sheikh Hasina's post-Covid innovative digitalization initiatives in public services including 333-digital helpline for emergency health

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment