আজ : ১১:০৬, জুলাই ৫ , ২০২০, ২১ আষাঢ়, ১৪২৭
শিরোনাম :

মনফালকনে‘র মাদক বিরোধী সেমিনার-অভিষেক এবং ইতালী ও শ্লভানিয়া সফর প্রসঙ্গ::মতিয়ার চৌধুরী

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:০৯:৪৯, ডিসেম্বর ২ , ২০১৯
photo


আমার আজকের লিখার বিষয়টি হলো স্বদেশ বিদেশ পাঠক ফোরাম ইতালী ‘‘মনফালকনে‘র” অভিষেক ও মাদক-সন্ত্রাস বিরোধী সেমিনার এবং ইতালী ও শ্লভানিয়া ভ্রমণ এবং সেখানকার বাঙ্গালী কমিউনিটির আন্তরিকতা প্রসঙ্গে।
একজন সাংবাদিক হিসেবে সংবাদ সংগ্রহের জন্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরেছি অনেক, ইতালীতে এর আগে কয়েকবার ভ্রমণ করার সুযোগ হলেও মনফালকনেতে এটাই আমার প্রথম সফর। সমগ্র ইতালীতে কয়েক লক্ষাধিক বাঙ্গালীর বসবাস হলেও শিল্প সম্বৃদ্ধ ছোট্র এই শহরে বাংলাদেশী কমিউনিটির অবস্থান বেশ শক্ত, এই শহরে ছয় হাজারেরও বেশী বাংলাদেশীর বসবাস। সেখানে তারা গড়ে তোলেছেন বাংলা স্কুল, মসজিদ সহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক ভাবে মতপার্থক্য থাকলেও দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে সকলে একাত্ম হয়ে কাজ করছেন, কারো সাথে কারো শত্রুতা নেই সকলে মিলে মিশে খুবই আন্তরিক পরিবেশে একই পরিবারের সদস্য হিসেবে বসবাস করছেন। এই শহরের বাঙ্গালী বাসিন্ধাদের মাঝে সংখ্যায় বেশী কিশোরগঞ্জ, শরীয়তপুর , ময়মনসিংহ ও কুমিল্লার মানুষই বেশী, অন্যান্য জেলারও আছেন। তবে তারা বিশ্বাস করেন আমার সবাই বাঙ্গালী একে অন্যের ভাই। তার তাদের আন্তরিকতা এবং ঋদ্যতা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে। সেখানকার প্রতিটি বাঙ্গালীই নিজকে দেশের জন্যে একেকজন দূত ভাবেন।
গেল ৩০ নভেম্বর ২০১৯ ছিল মনফলকনে ইতালী সম্বদেশ-বিদেশ পাঠক ফোরাম আয়োজিত অভিষেক এবং সেমিনার, আমাকেও একজন অতিথি হিসেবে এই আয়োজনে একজন বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে সেখানে যাওয়া। স্বদেশ-বিদেশ পত্রিকার সহসম্পাদক বাতিরুল হক সরদার এবং সম্পাদক ঈকবাল ভাইয়ের অনুরোধে বাধ্য হয়েই এই মহৎ অনুষ্টানে যোগ দিয়ে হয়। ২৯ নভেম্বর ২০১৯ লন্ডন সময় দুপুর একটা ত্রিশ মিনিটে টেনস্টেড এয়ারপোর্ট থেকে রেইন এয়ারের একটি ফ্লাইটে ইতালী সময় বিকেল তিনটা ত্রিশ মিনিটে থেরিসতি বিমান বন্দরে পৌঁছাই, আমাদের সাথে বিমানে দেখা হয় বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন মনফালকনের বাসিন্দা ও বিশষ্ট শিল্পপতি মোবারক হোসেনের সাথে তিনিও এই আয়োজনের অন্যতম স্পন্সর ও বিশেষ অতিথি, বিমান বন্দরে আমাদের ফুল দিয়ে বরন করেন স্বদেশ-বিদেশ পাঠক ফোরামের সভাপতি খান মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান , সেক্রেটারী দেওয়ান মজনু সহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা। সেখান থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় সিস্তানিয়া এলাকায় অবস্থিত গেষ্ট হাউজ বনাভিয়া বিএনবিতে। রাতে আমাদের সম্মানে আয়োজন করা হয় রিস্তপাব নামের একটি বিখ্যাত ইতালীয়ান রেষ্টুরেন্টে নৈশভোজ ও মতবিনিময় সভার। এই আয়োজনে যোগদেন সেখানকার বাঙ্গালী কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা। উঠে আসে বিভিন্ন প্রসঙ্গ, আলোচনা হয় স্বদেশ-বিদেশ পাঠক ফোরামের কার্যক্রম এবং সেখানকার বাঙ্গালীদের জীনযাত্রা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে। রাতে এর ফাকে ওই এলাকার শপিং সেন্টার ও সেখানকার বিখ্যাত চার্চ সহ দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখালেন মোবার ভাই‘র ছোট ভাই তরুন শিল্পপতি বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মোজাম্মেল আলম , তিনি আবার আমাদের গেষ্ট হাউজে পোঁছে দেন। যেহেতু সময় স্বল্প বিকেলেই আমাদের লন্ডন ফিরতে হবে। সকালে বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা ও ইমিগ্রেশন বিশেষঙ্গ ময়মনসিংহের অধিবাসী সানি ভূইয়া তার গাগিতে করে আমাদের নিয়ে গেলেন পার্শ্ববর্তি দেশ শ্লভানিয়ায়। ইতালী থেকে শ্লভানিয়া যাওয়া-আসার পথে মন ভরে প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করার পাশাপশি আলোচনা হয় বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে। তার কাছ থেকে সেখানকার রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আমাদের কমিউনিটি সম্পর্কে অনেক বিষয় অবগত হলাম। শ্লভানিয়ার নবাগরিছা শহরে একটি হোটেলে হালকা খাবার-দাবার শেষে আমরা শপিং করলাম সেই সুযোগে নবাগরিছা শহরের দর্শনীয় স্থান গুলো ঘুরে দেখালেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করলাম নেই কোন ইমিগ্রেশন চেক। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানালেন এবং একটি স্থাপনা দেখিয়ে বললেন সেখান থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ সব কিছু মনিটর করে। শ্লভানিয়ার নবগরিছা শহরে বাঙ্গালীর বসবাস না থাকলেও ইতালী থেকে বাঙ্গালীরা গিয়ে সেখানে শপিং করেন। বিশেষ করে সেখানে সব কিছু তুলনা মূলক ভাবে ইতালী থেকে স্বস্থা। দুপুর তিনটার মধ্যেই আবার ফিরে আসলাম শ্লভানিয়া থেকে ইতালীতে। মনফালকনে সিটি সেন্টারের বসবাস করেন আমাদের সিলেটের খান সাহেব। তার আসল নামের চেয়ে খান সাহেব হিসেবে তিনি সকলের কাছে অধিক পরিচিত। তার ঘরে আয়োজন করা হয় আমাদের জন্যে মধ্যাহ্ন ভোজের।
বিকেল পাঁচটায় আমরা যোগ দিলাম সেমিনারে, সেমিনারটি আয়োজন করা হয় , সিটি সেন্টারের পাশে একটি স্থানীয় কাউন্সিল হলে, সেমিনারের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ, স্বদেশ বিদেশ পাঠক ফোরামের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টান। লন্ডন থেকে আমি নিজে স্বদেশ বিদেশ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সহসম্পাদক বাতিরুল হক সরদার, মোবারক হোসেন ছাড়াও স্থানীয়দের মধ্য থেকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শফিকুল ইসলাম মাজহার, ফরিদুল ইসলাম, খন্দকার তফাজ্জল হোসেন রফিকুল ইসলাম, মামুন আল রশিদ সামসুল হক, জনি সোলায়মান হোসেন সহ অনেকে। সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে স্থানীয় শিল্পিরা ছাড়াও লন্ডন থেকে যোগ দেন শিল্পিরা। বিকেলে আমাদের ভেনিসের ভেনিজিয়া মার্কো বিমান বন্দরে পৌঁছে দেন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা কুমিল্লার অধিবাসী পাপ্পু ভাই। ইতালী সময় রাত দশটায় ভেনিস বিমান বন্দর থেকে রেইনএয়ারের একটি ফ্লাইটে যাত্রা করে লন্ডন সময় রাত সাড়ে এগারটায় টেনস্টেড বিমান বন্দরে পৌাঁছাই। ইতালীর মনফালকনের বাংলাদেশী কমিউনিটির আন্তরিকতায় আমি খুবই মুগ্ধ। আমরা যারা নিজ দেশ ছেড়ে অন্যদেশে অভিবাসী হয়েছি আমাদের সবার উচিত আমাদের সকলের দেশের জন্যে কাজ করা নিজ সভ্যতা ও কৃষ্টি অন্যের কাছে তুলে ধরা। সেদিক থেকে মনফলকনের বাঙ্গালীরা দেশের জন্যে বিদেশে একেকজন দূত হিসেবে কাজ করছেন। শুধু তাই নয় তাদের মনমানসিকতাও উদার ।
(লেখক বার্তা সংস্থা এনএনবির যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি ও কলামিষ্ট স্বদেশ-বিদেশ।)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

Prime Minister Sheikh Hasina is delivering post-Covid public health services

photo Ansar Ahmed Ullah::”Under the prudent and visionary leadership of Prime Minister Sheikh Hasina, Bangladesh is delivering public health services and humanitarian emergency aide to our people's door step, utilizing ‘GovTech’ and ‘DevTech’ under her ‘Digital Bangladesh’ vision'', said Bangladesh High Commissioner Saida Muna Tasneem at the virtual Commonwealth Leaders meeting on the COVID-19 crisis earlier this week. Presidents, Prime Ministers and Foreign Ministers of 30 Commonwealth member countries including Nigeria, Kenya, Belize, Bahamas, Uganda, Tanzania, Guyana, and the Gambia attended the meeting. High Commissioner Tasneem was speaking at the virtual Commonwealth Leaders meeting as a representative of Prime Minister of Bangladesh. She briefed the Commonwealth leaders about Prime Minister Sheikh Hasina's post-Covid innovative digitalization initiatives in public services including 333-digital helpline for emergency health

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment