আজ : ১০:০৯, সেপ্টেম্বর ২৬ , ২০২০, ১১ আশ্বিন, ১৪২৭
শিরোনাম :

মঞ্জিল তলার বাঁধে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নদীর তীরবর্তী মানুষ বদলে যাচ্ছে ভূ-প্রকৃতি

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:০১:৩৪, অগাস্ট ২ , ২০২০
photo


মোঃ হানিফ, জৈন্তাপুর (সিলেট)
হিদাইর খাল নামে পরিচিত হলেও সরকারি নথিপত্রে নদীটির নাম বাউলি খাল। গোয়াইঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নের কাকুনাখাই গ্রামের পাশে সারি নদী থেকে বাউলি খাল নদী প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হয়ে হাওর-বাওর-বিল-জনপদ অতিক্রম করে প্রায় ১৩ কি.মি পথ অতিক্রম করে আরও কয়েকটি খালের সাথে মিলিত হয়ে বেকরা নাম ধারণ করে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। এ নদীর তীরে জুগিরকান্দি নামক সোয়াম্প ফরেস্ট ও বনবিভাগের মুর্তাবন রয়েছে। বনবিভাগের মুর্তাবনটি বালির হাওর নামক হাওরে অবস্থিত। বেকরা নদী পরবর্তীতে কাপনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে কাপনা নাম ধারণ করে রাতারগুল জলারবনের মধ্যে দিয়ে সারি নদীতে পতিত হয়েছে।
বাউলি খাল দিয়ে সারি নদীর এক তৃতিয়াংশ পানি প্রবাহিত হত। ফলে পাহাড়ী ঢলের সময় পানি ৫/৬ ঘন্টার মধ্যে নেমে যেত। এ বাঁধের কারণে সারি নদীর পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২/৩ মিটার বেড়ে যায়। এতে পাহাড়ী ঢল ও বন্যার কারণে সারি নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি সহজে নামতে পারেনা, ৪/৫ দিন সময় লেগে যায়। এতে নদী-নালা ও শাখা-প্রশাখা নদীগুলোর তীরের মাটি সহজেই নরম হয়ে যাচ্ছে। জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ও আলীরগাঁও ইউনিয়ন মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এসব অঞ্চলের হাওর-বাওর-বিল-ঝিল-নদী-নালা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে বসতভিটা, ক্ষেতের জমি, মসজিদ, কবরস্থান। অবস্থা এমন চলতে থাকলে আগামী দু’ এক বছরের মধ্যেই পুরো এলাকার পরিবেশ, প্রকৃতি ও ভূপ্রকৃতি বদলে যাবে। ধ্বংস হয়ে যাবে জীববৈচিত্র। সারি নদী ও শাখা নদী ও খালগুলোর তীর ভেঙ্গে যাচ্ছে, নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে; মানুষের বসতভিটা, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্ষেতের জমি, শ্মশান ও গোরস্তান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে; নদী তীরবর্তি রাস্তাঘাট নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে; দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণির বাস্তুসংস্থান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে; পুরো এলাকার ভূ-প্রকৃতি ক্রমশ: বদলে যাচ্ছে; পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে, হুমকির মুখে জীব বৈচিত্র্য। নদী ও খাল : সারি নদী, বড়গাঙ্গ, কাটাগাঙ্গ, নয়াগাঙ্গ, কলসী, নাপিতখাল, বেকরা, পোড়াখাই, চিকারখাল, খাফনাখাল, কচুয়াখাল, খটখটি, কুয়াইখাল, ছাগলখাউরি, খাসি নদী, বাউরিখাল, পুটিখাল, নলজুরীখাল। হাওর ও বিল : পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন: সানকীভাঙ্গা হাওর, আসামপাড়া, আসামপাড়া হাওর, চৈলাখেল ৯ম খন্ড, চৈলাখেল ৮ম খন্ড, বাউরভাগ হাওর, নয়াগাঙ্গের পার (একাংশ), আলীরগাঁও ইউনিয়ন: বুধিগাঁও হাওর, নাইন্দা হাওর, তিতকুল্লী হাওর, লাম্বাডুবা হাওর, বালির হাওর, দাড়াইল, রউয়া,টুকা, ঘাড়দাড়াইল, রউচুল্লি, হালাং, কুরিমঞ্জ, টুপলং, ছোট টুপলং, খলারকর, কচুবিল, রউয়া, কুকুরমারা, দেওচাপরা, বাগচাপরা, জুগিরকান্দি, বালির হাওর/মুর্তাবন। জৈন্তাপুর ইউনিয়ন: চাতলা হাওর, বড় চাতলা হাওর, বাওন হাওর, মেদল হাওর, ডিবির হাওর, কেন্দ্রী হাওর, বিরাইমারা হাওর, বড়বিল হাওর, জনপদসমূহ : বিড়াখাই, হাটিরগ্রাম, গাথি, ডুল্টিরপার, চাতলারপার, শেওলারটুক, মল্লিফৌদ, কান্দি, বাউরভাগ, কৈনাখাই, ভিত্রিখেল, গুফরাজান, খাড়ুবিল, ববরবন্দ, লামনীগ্রাম, কাটাখালসহ কাকুনাখাই খলা, রাজবাড়ীকান্দি, লক্ষ্রীপুর ১নং, লক্ষীপুর ২ নং, নলজুরি, আসামপাড়া, কাকুনাখাই খলা, আগফৌদ, নয়াখেল, টিকর নয়াখেল, পুড়াখাইপার, আনন্দবাজার, সিমারবাজার, মুখতলা,জাফলং চা বাগান, নয়াবস্তি, জুমপার, রাধানগর, কান্দুবস্তি, নয়াবস্তি, জাফলং বাজার, মুক্তাপুর, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সংখ্যা : ৫০,০০০ পরিবার ,ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ: প্রায় ৪ লক্ষ সারি নদী সারিঘাট হয়ে ক্রমশ আকাবাঁকা পথে পশ্চিম দিকে যেতে যেতে কাকুনাখাই এলাকায় ইউ টার্ন নিয়েছে। সে ইউ টার্ণ থেকে বাউলিখাল নদী উৎপত্তি হয়েছে। বাউলি খাল নদীর পূর্বপাশে কাকুনাখাই গ্রাম আর ওপারে রয়েছে খলা, বুধিগাঁও এবং তিতকুল্লি নামক ৩ টি গ্রাম। গ্রামগুলোতে প্রায় ১০০০ মানুষ বসবাস করে। সে গ্রামগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপনের কথা বলে এবং অজুহাত দেখিয়ে এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সে গ্রামগুলোর ঘরে ঘরে কান্নার রোল কারণ সারির ইউ টার্ণেও মুখে তাদের গ্রাম এবং সেখানকার জনপদগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে। অথচ এ টাকা দিয়ে এরকম দু’টি বৃজ দেওয়া যেত।
এ ব্যপারে জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার নদী তীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলো আগামী শুক্রবার উপজেলার ৪ নং বাংলা বাজার সংলগ্ন রাংপানি নদীর তীরবর্তী স্থানে এ মানব বন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।

Posted in সিলেট


সাম্প্রতিক খবর

জৈন্তাপুরে মসজিদের শিক্ষক গরম চা ঢেলে শিশু ছাত্রকে নির্যাতন

photo জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেট জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেহপুর (হরিপুর) ইউপির হেমু মাঝপাড়া গ্রামের মক্তবের শিক্ষক গরম চা ঢেলে ৭ বৎসরের শিশুর শরীর জ্বলসে দিয়েছে। প্রতিকার চাইলে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করেনি মহল্লাবাসী। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আইনের সহায়তা নিতে পরামর্শ দেন। মামলা দায়ের‘র প্রস্তুতি চলছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২২ সেপ্টেম্বের মঙ্গলবার

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment