আজ : ০১:০৭, ডিসেম্বর ১৪ , ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬
শিরোনাম :

ভরসা কেবল শেখ হাসিনাঃআল আমিন বাবু

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:০২:১৪, অক্টোবর ১১ , ২০১৯
photo

শুধু মাত্র আওয়ামীলীগের বিরোধিতা করবার জন্য বামাতীরা জামাত শিবিরের সাথে সক্ষতা গড়তে এতটুকুও দ্বিধা করে না ! অথচ যুদ্ধপূর্ব সময়ে সবাই "বঙ্গবন্ধুর " নেতৃত্ব মেনে নিয়েই "এক নেতা এক দেশ ,,,,,, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ " স্লোগান তুলে আমাদের দেশ থেকে পাকিদের তাড়িয়ে দিয়ে "বাংলাদেশ " নামের দেশটাকে জন্ম দিয়েছিলো তারাই । কিন্তু আজকের চিত্র ভিন্ন ! আজকের কমুনিস্ট আর সে সময়কার কমুনিস্ট এক না । তাই আজ সমাজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বামাতের হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাকের প্রেতাত্মা রা বঙ্গবন্ধুর বই মেলায় ও ঢুকে যায় ,শুধু ঢুকেই যায় না, তারা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নেয় ।তারপর এই প্রেতাত্মামরা যখন জনগণের কাছে ধরা পরে যায় তখন ওই সুশীলরা "আমরা জানতাম না " বলে হাত ধুয়ে ফেলে আবার সাফ সুতোর হয়ে ওঠেন । অথচ তাহাদের মধ্যে ছিল গভীর বন্ধুত্ব ,এক বাড়িতে থাকা , এক সাথে খাওয়া এবং তাহাদের আঁতেলীক সম্প্রীতি, একে ওপরের লেখার উপর শুআলোচনাও করা ।তাই তারা যখন বলেন "আমরা জানতাম না " তখন শুধুই সেলুকাস কে স্মরণ করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকে না ।কারণ এরা বঙ্গবন্ধুর কন্যার কাছ থেকেই বিভিন্ন রকম পুরস্কার , খেতাব বাগিয়ে নেয়, আবার এই চরম ক্ষমতাও সেখান থেকেই পেয়েছেন । কিন্তু দিন শেষে তাঁরই একদিন থালা ছিদ্র করে । প্রশ্ন হলো এরা কিভাবে এই পর্যন্ত আসে ?

শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোই যেন তাদের মূল লক্ষ্য । সুশীলের আলখেলায় আগাগোড়া ঢাকা এই প্রথম আলু গং সবর্দাই প্রস্তূত । তাই যেকোনো একটা ইস্যু হলেই তারা সবাইকে নিয়ে "শাহবাগে" ছোটেন যেন, এখনই উল্টিয়ে ফেলবেন । সেই কমুনিস্টদের একটা লক্ষ্য ছিল, কিন্তু এদের আছে কি ? জানি না । এদেরই সহযোগিতায় শিবিরের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরোধী কোটা নামক আন্দোলন শাহবাগ পর্যন্ত এসেছিলো । এদের সহযোগিতায়ই শিবির এর নুরা রা "মুক্তিযোদ্ধাদের গালে জুতা মারো তালে তালে " স্লোগান দিয়েছে, বুক ফুলিয়ে "আমি রাজাকার " শরীরে এঁকে মুক্তিযুদ্ধের উপর চরম অবমাননা করেছে । এদের কারণেই শিবির নুরা আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ! আজ প্রশ্ন করছি এদেরকে কে পেট্ট্রোন করলো ?

আজ পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে সম্মানীও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ,শেখ হাসিনা । তিনি যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তাও আবার নিজের ঘর থেকেই শুরু করলেন ধর পাকড়, ঠিক তখনি তেনারা নড়ে চড়ে উঠলেন । এই বুঝি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঘরের দরজায় এসে হাজির হলো । এই দুর্নীতিওয়ালারা কিন্তু মাসতুতো ভাই , এখানে কোনো দল , লীগ ,জামাত ,বামাতের পার্থক্য নেই । এক সময় কমিউনিস্ট নেতাগণ রাশিয়া কিংবা কিউবা সফর করতেন কিন্তু আজ তারা নিউ ইয়র্ক বা ফিলাডেলফিয়া সফর করেন । মস্কোর কেবলা ঘুরে এখন কি আমেরিকায় ? আমরা মূর্খ মানুষ এ আমাদের বুঝের বাইরে । এ সবই মেধাবীদের খেলা !

দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ খুবই প্রয়োজন, তা না হলে শেখের বেটিকে বুঝি আর থামানো যাবে না । এই শেখের বেটিকে থামানোর পাঁয়তারা চলছে দেশে বিদেশে সমান তালে । কিছুদিনের মধ্যেই নিউ ইয়র্কে একটি পত্রিকার জন্মবার্ষিকীতে কি নোট স্পিকার হয়ে আসছেন একজন মেধাবী বেক্তিত্ব যিনি যুদ্ধপরাধীদের বিচারের বিপক্ষের লোকের পক্ষে ট্রাইবুনালে দাঁড়িয়েছিলেন, এবং সুবিধা করতে না পেরে ট্রাইবুনালে ক্ষমা চেয়ে জরিমানা দিয়ে বের হয়ে এসেছিলেন । এই ধরণের মেধাবীদের কারা তোষামোদ করে ? এ বুঝতে শনি আর মঙ্গোল লাগে না । বিএনপি আমলে ওই পত্রিকার চরিত্র আমাদের কাছে একদম ফকফকা । তবে ২০০৮ এর পর চিত্র ভিন্ন । তবে যুদ্ধপরাধের বিচারে তাদের ভূমিকা একদম শূন্যের কোঠায় ছিল । তাই তাদের মেধাবীকে তার আনবে এটাই স্বাভাবিক , প্রশ্ন হলো , ওই পত্রিকাকে কারা সরকারের কাছে নিয়ে গেলেন ???

আমাদের দীপ , শাহবাগ থেকে রাতে হল এ গেলো ,গিয়ে দেখলো কিচেনে অনেক রান্না চলছে , এতো রাতে রান্না ? জানা গেলো সারা দেশ থেকে হেফাজতীরা আসছে তাদেরকে খাওয়ানোর জন্য এই বেবস্থা । দীপ প্রতিবাদ করলো , বিনিময়ে ৪ঘন্টা ধরে হাতুড়ি দিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারা হলো ঠিক ওই সময় যখন আমরা শাহবাগে অবস্থান করছি ,চার ঘন্টা পর যখন ওকে উদ্ধার করা হলো , ততক্ষনে দীপ কমাতে চলে গেছে , দীপ ৩ দিন পর আমাদের ছেড়ে চলে গেলো ! আপনারা কি মনে করেন না যে দীপ মেধাবী ছিল ? এই ঘটনা তো বুয়েটেই ঘটেছিলো । দীপ ছাত্রলীগ করতো বলেই কি দীপের নামের আগে মেধাবী যুক্ত করেন নি ? আমি কোনো হত্যার পক্ষে বা বিপক্ষে বলতে আসিনি । আমি শুধুই বলতে এসেছি মেধাবী বলার আগে ভাবতে হবে । বুয়েটে যারা পরে তারা সবাই আপনাদের দৃষ্টিতে মেধাবী হলেও আমার দৃষ্টিতে নয় । একজন মৌলবাদ বা রেডিক্যাল মানসিকতার মানুষকে কখনোই মেধাবী বলা যায় না । আমি আবরার ফাহাদের ওয়াল দেখে এটুকু নিশ্চিত হয়েছি যে তিনি মেধাবী ছিলেন না তিনি একজন রেডিক্যাল মৌলবাদ পন্থীর সক্রিয় মানুষ ছিলেন । কিন্তু এতে তার হত্যা জায়েজ হয়ে যাবে না , যার পদক্ষেপ বঙ্গবন্ধু কন্যা নিজেই নিয়েছেন ।

আমার এক বন্ধু স্ট্যাটাসে লিখলেন যে গণজাগরণের লোকরা কই ? তারা কেন এখন শাহবাগে নাই ? এরা সব বাটপার । যেহেতু আমরা মেধাবীদের জন্য শাহবাগ গেলাম না , সরকার উল্টিয়ে দিলাম না তাই আমরা বাটপার ? তাহলে তার স্ট্যাটাস থেকেই বোঝা যায় যে এ হত্যা একটা ইস্যু ,যে ইস্যু শাহবাগিদের শাহবাগ পর্যন্ত নিয়ে আসবে শেখের বেটির বিরুদ্ধে ! আমার বন্ধুটি আবেগী হয়ে সবার সাথে তাল মিলিয়ে লিখেছেন মনে করে আমি এর কোনো উত্তর দেয় নাই । কিন্তু আমার বন্ধুর আর এক বন্ধু তার সেই স্ট্যাটাসটি তার ওয়াল থেকে তুলে এনে আমার ইনবক্সে পোস্ট করেছেন যাতে আমি আমার বন্ধুর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে যাই । হাসি পেলো , " ভাই আমি আপনার মতো ধূর্ত না হলেও বোকা কিন্তু নই ! শাহবাগে সবাই যেতে পারে কিন্তু সবাই শাহাবাগি হয় না । তাই আপনারা যারা এই মেধাবী হত্যার জের ধরে শাহবাগে যেতে চাইছেন ? তারা পারবেন না , শেখের বেটিকে ঘায়েল করা এতো সহজ নয় । ইন্ডিয়ার জূজূ এক সময় পাকিস্তান দেখাতো , এখন আপনারা দেখান । আমরা চুপ করে থাকি বলে ভাববেন না আমরা দুর্বল ! হিন্দু কবি রবীন্দ্রনাথ এর লেখা জাতীয় সংগীত কে বাতিল করে দিয়ে তারেক জিয়ার ফরমায়েশি গান কে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করার দাবি তোলে যে "বলদ" , আপনারা তাকে কোলে তুলে নৃত্য করেন কোন কারণে তা বুঝতে আমাদের সময় লাগে না । আমরা সহনশীল ! এটা মোটেও আমাদের দুর্বলতা নয় ।

বঙ্গবন্ধুর কন্যার মতো সহনশীল একজন নেতাও আজ প্রজন্ত এই দেশে আসে নাই । তাই প্রত্যেকটা বিচার হয়েছে স্বচ্ছতার সাথে । যেখানে আপনাদের ঘোষণায় দেয়া আছে যে , আপনারা ক্ষমতায় এলেই ৩ লক্ষ্য কচু কাটা করবেন । আমরা যুদ্ধপরাধীদের বিচার চেয়ে আজ সব চাইতে অবহেলিত ! কারণ আওয়ামীলীগের ভিতরেই বেশিরভাগ এই বিচারের বিপক্ষে ছিল । শুধু একমাত্র শেখের বেটিই আমাদের পাশে পাহাড়ের মতো ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল । আর এখানেও ছাত্র সংগঠন গুলোই ছিল সম্মুখ কাতারে শুধু জামাত বিএনপি ছাড়া । তারপর ও লিস্ট করে করে এই সরকারের আমলে আমাদেরকেই মারা হয়েছে , এখনো আমরা ওদের হিট লিস্ট মাথায় নিয়েই ঘুরে বেড়াই অথচ ওরাই আজ কত সহজে ছাত্রলীগ,যুবলীগ,আওয়ামীলীগে বদলে গেলো ।এদের দাপটে তৃণমূলের সত্যিকারের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষগুলো আজ শুধুই অবহেলিতই নয় , তারা বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমায় জর্জরিত । দেখার কেউ নেই । এক শেখের বেশি কত দিকে যাবে ? তাহলে শেখের বেটিকে যারা ঘিরে আছে তাদের কাজ টা কি ?

জামাত বিএনপিকে কে নিয়ে আসলো আওমীলীগের পতাকা তলে , এর উত্তর কিন্তু ওবায়েদুল কাদের ভাই আপনাকেই দিতে হবে ! বুয়েটে যা ঘটেছে তা ছাত্রলীগের কাজ নয় । তবে কে ? কেন ? কিভাবে তাদের দিয়েই এটা ঘটালো তা সব বেরিয়ে আসবে । সুতারং ! ধর্য্য ধরুন । বঙ্গবন্ধু কন্যার উপর ভরসা রাখুন, কারণ তাঁরই আছে ঈমানী জোর ও সততা ! আজ সর্বত্র আওমীলীগের ভিতরেই জামাত বিএনপি গিজগিজ করছে । এইতো কদিন আগেই দেখলাম ,নিউ ইয়র্ক আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বলি হয়ে গেলো একজন ডাক্তার যিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল ছাত্রলীগের ৩২ নম্বর ব্যাচের ছাত্রলীগের একজন প্রথম সারির ফ্রন্ট ফাইটার । তার সফল যুদ্ধেই সেদিন ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল এ সভাপতি পদটি অর্জন করতে পেরেছিলো সেই চরম শিবিরের দিনে । এর জন্য তাকে অনেক মূল্য দিতেও হয়েছে , নিজে আহত হয়েছে , হারিয়েছিল তাদের ৩টি তাজা প্রাণ যা ছিল বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ । অথচ এই মানুষটিকেই খন্দকার মোস্তাক এর চর বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে । মজার ব্যাপার হলো খন্দকার মোস্তাকের সত্যিকারের প্রেতাত্মাকে কিন্তু আওয়ামীলীগের সভাপতি তার পাশেই ডায়াসে নিয়ে বসে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বই মেলার সভায় ।

পরিশেষে বলতে চাই , আজ সময় এসেছে আবার বঙ্গবন্ধুর কন্যার পাশে দাঁড়ানোর । দিন শেষে একমাত্র যার উপর আমরা ভরসা করতে পারি তার পাশেই আমাদের দাঁড়ানোর এখনই সময় ।তিনি যেমন আমাদের শক্তি আমরাও তারই শক্তি ।
জয় বাংলা ,জয় বঙ্গবন্ধু
আল আমিন বাবু
নিউ ইয়র্ক !

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

চার বাঙ্গালী নারীর লন্ডন জয় সাধারন নির্বাচনে কনজারভেটিভের হ্যাট্রিক লেবারের শোচনীয় পরাজয় ব্রিটেনের ইউ থেকে বেরিয়ে আসতে আর কোন বাধা নেই

photo মতিয়ার চৌধুরীঃগতকাল ১২ ডিসেম্বর ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে ৩৬৪টি আসন পেয়ে হ্যাট্রিক করেছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটি দল, অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবারের শোচনী পরাজয় হয়েছে। আর এই নির্বাচনে লন্ডন জয় করেছেন চার বাঙ্গাল নারী। এবারের নির্বাচনে ক্ষমত্সীন কনজারভেটিবের আসনে বেড়েছে ৪৭টি, লেবার দলের কমেছে ৫৯টি, লিবারেল ডেমক্রেটের কমেছে ১টি, মোট ৬৫০ আসনের মধ্যে রক্ষনশীল দল কনজাভেটিব

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment