আজ : ১১:৩৪, জুলাই ৫ , ২০২০, ২১ আষাঢ়, ১৪২৭
শিরোনাম :

বীরাঙ্গনা সন্ধ্যা রানীর সান্নিধ্যে::মনিরা পারভিন

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:১১:২৩, জুলাই ৭ , ২০১৯
photo


জীবনের ভরদুপুরে সন্ধ্যা নেমে এসেছিল বীরাঙ্গনা সন্ধ্যা রানীর জীবনে। স্বামীকে হত্যার পর হানাদাররা তাঁর শরীর নিয়ে মেতে উঠেছিল বিকৃত উল্লাসে। রক্তে মুছে গিয়েছিল তাঁর সিথির সিদুর। নির্যাতনে অজ্ঞান সন্ধ্যা রাণীকে পুড়িয়ে মারতে বাইরে থেকে শেকল টেনে ঘরে আগুন দিয়েছিল পশুর দল। আগুনের উত্তাপে সংজ্ঞা ফিরে এলে কোনরকম ভাবে জানালা দিয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন এই বীর নারী। এরপর আর সংসার করেন নি তিনি। একা একাই টেনে চলেছেন জীবনের ঘানি। মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অপূর্ব শর্মার বীরাঙ্গনা কথা গ্রন্থ থেকে যেদিন প্রথম সন্ধ্যা রাণীর করুন আখ্যান পাঠ করি, শিউরে উঠেছিলাম পাকিদের বিভৎসতায়। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়েছিল বেদনার অশ্রু। ঘৃনায় থুথু দিয়েছিলাম পাকি পশুদের মুখে।
যতবারই সন্ধ্যা রাণী পাঠ করেছি ততবারই মনে হয়েছে, আমি যদি তাঁকে জড়িয়ে ধরতে পারতাম। কাছে গিয়ে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারতাম !এই কথাটি অপূর্ব শর্মার সাথে শেয়ার করলে তিনি সন্ধ্যা রাণীর সান্নিধ্যে আমাকে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই থেকেই অধির আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকি কাঙ্খিত দিনের। নতুন করে আমরা পরিকল্পনা করি বীরাঙ্গনা কথার ভিডিও চিত্রধারনের। গত বছরের ২৮ জুন বাবা-মাকে সারপ্রাইস দিতে আকস্মিক দেশে যাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত হয়, ৩রা জুলাই সন্ধ্যা রানীর সাথে সাক্ষাতের। সকল আয়োজন সম্পন্ন করে আমরা রওয়ানা হই মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে। সঙ্গী হন কবি ও লেখক আহমাদ সেলিম, কমলজিৎ শাওন, জুনিয়র সেলিম এবং আমার মা শাহানা সুলতানা শেলী।
লেখক অপূর্ব শর্মা সঙ্গে থাকায় বৃষ্টি বিড়ম্বনা উপেক্ষা করে নির্বিঘ্নে পৌছাই বীরাঙ্গনা সন্ধ্যারাণীর বাড়িতে। সন্ধ্যারাণীর সব হারানোর কথা শুনে নিজেকে সামলে রাখতে পারিনা। কথা বলার এক পর্যায়ে সন্ধ্যারানী নিজে থেকেই জড়িয়ে ধরেন আমাকে। কাঁদতে থাকেন তিনি, কান্নায় ভেঙে পড়ি আমিও।
তাঁকে খুঁজে বের করা, মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইয়ে দেয়ার জন্য বার বার তিনি অপূর্ব শর্মার প্রশংসা করছিলেন। বলছিলেন, তিনি তাঁর কাছে ধর্মাবতার। লেখকের এই নিঃস্বার্থ প্রয়াসের কথা জানতে পেরে আমরা সকলেই তখন আপ্লুত। কিন্তু এর আগে কখনও বন্ধু অপূর্ব শর্মার কাছ থেকে শুনিনি তাঁর দ্বারা সন্ধ্যা রাণীর জীবন বদলের কাহিনী। তাঁর নিভৃত প্রয়াসে মুগ্ধ হই।
লন্ডনে বীরাঙ্গনাদের অগ্নিভাষ্য অসংখ্যবার পাঠ করতে করতে এই চরিত্রগুলোর সাথে একাকার হয়েছি ঠিকই কিন্তু কোনও বীরাঙ্গনাকে স্পর্শের অনুভূতি ছিলো এই প্রথম। সেদিন অনেকক্ষন জড়িয়ে ধরে রেখেছিলাম তাঁকে। তাঁর বেদনা উপলব্ধি করার চেষ্টা করছিলাম হৃদয় দিয়ে। ছাড়তে ইচ্ছে করছিলনা সন্ধ্যা রাণীকে। আজ লন্ডনে বসে সেই দিনটির কথা মনে পড়ছে বার বার। খুব, খুব মিস করছি সন্ধ্যা রাণীর সান্নিধ্যে কাটানো সময়।

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

Prime Minister Sheikh Hasina is delivering post-Covid public health services

photo Ansar Ahmed Ullah::”Under the prudent and visionary leadership of Prime Minister Sheikh Hasina, Bangladesh is delivering public health services and humanitarian emergency aide to our people's door step, utilizing ‘GovTech’ and ‘DevTech’ under her ‘Digital Bangladesh’ vision'', said Bangladesh High Commissioner Saida Muna Tasneem at the virtual Commonwealth Leaders meeting on the COVID-19 crisis earlier this week. Presidents, Prime Ministers and Foreign Ministers of 30 Commonwealth member countries including Nigeria, Kenya, Belize, Bahamas, Uganda, Tanzania, Guyana, and the Gambia attended the meeting. High Commissioner Tasneem was speaking at the virtual Commonwealth Leaders meeting as a representative of Prime Minister of Bangladesh. She briefed the Commonwealth leaders about Prime Minister Sheikh Hasina's post-Covid innovative digitalization initiatives in public services including 333-digital helpline for emergency health

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment