আজ : ১২:২৫, অক্টোবর ২৭ , ২০২০, ১১ কার্তিক, ১৪২৭
শিরোনাম :

পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয় সমীপে-স্পেন থেকে জুনেদ কামালীর খোলাচিঠি

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:০১:২৪, জুলাই ১ , ২০২০
photo

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয় সমীপেষু;

আমি সুনামগন্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী ৭নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের একজন বাসিন্দা আজ জীবিকার তাগিদে প্রবাসী। প্রবাসী হলেও নিয়মিত দেশের খবর যতটুকু সম্ভব রাখি।রাখার চেষ্টা করি।
কিন্তু এই বিদেশ বিভূঁইয়ে বসেও আজ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে লিখতে বসেছি।

মূল বিষয়ের আগে অতীত কিছু প্রেক্ষাপট স্মরণ করতে চাই।

আমাদের অভিভাবক, জগন্নাথপুর তথা ভাটি বাংলার প্রবাদপুরুষ স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাস্ট্র মন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেবের মৃত্যুর পর তাঁর শুন্য আসনে উপ নির্বাচনে আপনি যখন পানপাতা নিয়ে এসেছিলেন তখন স্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দের সাথে আমরাও সেদিন আপনাকে বরন করে নিয়েছিলাম সানন্দে। আশার বেলুন ফুলিয়ে সেদিন আপনাকে নিয়ে লড়েছিলাম নিজ দলের একাংশ সহ বিরুধীদের সাথে, সেদিন অনেক রক্তও ঝরেছিল উক্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।
আমরা দুঃখিত, আমরা মর্মাহত সেদিন অনেক লড়েও আমরা পারিনি আপনার গলায় বিজয়মাল্য পরাতে।
পরে দেশে সেনাশাসিত সরকারের সময় আমরা এই আপনাকে নিয়েই নতুনকরে বুকে স্বপ্ন বুনতে শুরু করি যা ২০০৮ এর নির্বাচনে সত্যে রুপান্তরিত হয়।আমরা আপনাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছিলাম খুব বড় কোন আশা নিয়ে নয়। শুধুমাত্র আমাদের জগন্নাথপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে সেই আশায়, জগন্নাথপুরের প্রতিটি রাস্তায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে সেই প্রত্যাশায়।জগন্নাথপুরকে লন্ডনশহরে রুপান্তর বা এ অঞ্চলের মানুষকে খাবার দিবেন সেই প্রত্যাশায়ও নয়। মূল দাবিতে ছিল একটি মাত্র রাস্তা- ভবের বাজার টু খাদিমপুর হয়ে গোয়ালাবাজার সড়ক। যে সড়কটি আমাদের জীবদ্দশায় পাকাকরন হয়েছে বলে মনে করতে পারছি না। জীবদ্দশায় এ কারনেই বললাম আমি মনেই করতে পারছিনা যে এ রাস্তা ভাল অবস্থায় কবে গোয়ালাবাজার গিয়েছি। রাস্তাটি পাকা করন হবার পর দ্বিতীয় মেয়াদে কাজ আর হয়েছে বলেও মনে পড়ছেনা।সেই রাস্তাটি আজ নাটকের পর নাটক করে কখনও বোর জমি কখনও আমন আবার কখনও পর্যটকদের সমুদ্র বিলাশের প্রতিকী সমুদ্র সৈকত হয়ে আজ খানাখন্দক নিয়ে ঠায় দন্ডায়মান।রাস্তাটির সংস্কার কাজ বলতে যা হয়েছে সেটা শুধুই যেখানে ভাঙ্গে সেখানেই গড়া পর্যন্তই।

সাংসদ হবার পর প্রতিটি সভা সমাবেশে আপনি জোর গলায় রাস্তার কাজ দ্রুততম সময়ে হবে বলে ঘোষনাও দিয়েছিলেন যা শুরু হয়ে আজও শেষ হয়নি। পরে আবার ঐতিহাসিক ২০১৪ সালের নির্বাচনে বৃহত্তর শাহারপাড়ায় আপনার জন্য আমরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাকে নির্বাচনে বিজয়ী করতে জীবন বাজি রেখে কাজ করি অতঃপর আপনি সেবারও সাংসদ নির্বাচিত হন।সেই দু’বারে আপনি অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং পরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করছেন; যা আমাদের আশার বেলুন বড় হতে হতে আজ অনেকটাই চুপসে গেছে।তখনও আপনি বিভিন্ন সময়ে অনেক ঘোষনা দিয়েছিলেন যা রাজনীতির টানাপোড়েন ও আইনের মারপ্যাঁচে আর নানাবিধ জটিলতায় ঘোষনা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকে গেল। সংস্কার কাজ উদ্ধোধন করেও তা সমাপ্তির মুখ দেখেনি।এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আপনি বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে আজ আপনি সরকারের গুরুত্বপূর্ন পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী যা এইটুকু রাস্তার কাজ আপনার সদয় এবং মানবিক ইচ্ছার উপর নির্ভর করে বলে আমি মনে করি যেখানে এই সময়ে এমন একটি রাস্তা খাল কেটেও সম্পূর্ন নতুন করে বানানো সম্ভব।

মাননীয় মন্ত্রীমহুদয়,
আর কত দুর্ভোগ পোহালে আমাদের এই ইউনিয়নের তথা জগন্নাথপুর বাসীর এ মৌলিক দাবী বাস্তবায়িত হবে যেখানে আমরা দেখতে পাই সমগ্র বাংলাদেশই আজ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে ? আর কত ধরনা দিলে আমাদের প্রবীন আর অসুস্থ্য জনসাধারনের কষ্টের লাঘব হবে যেখানে দক্ষিন সুনামগঞ্জের দিকে তাকালে উন্নয়ন কাজ করারমত জায়গা চোখেই পড়েনা।আর কত অপেক্ষায় দীর্ঘ রজনী পোহালে আমাদের এই জনপদের গনমানুষের প্রাণের দাবীর এই সড়কটি সম্পূর্নরুপে সংস্কার হবে যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর “ভিশন ২০২১” আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।
দ্রুততম সময়ে হবে হচ্ছে শুনতে শুনতে এ অঞ্চলের মানুষ আজ “দ্রুততম” শব্দটির সংজ্ঞা আর অর্থ ভুলেগেছি মাননীয় মন্ত্রী।

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হিসেবে আমাদের ভুল হতে পারে, ত্রুটি বিচ্ছ্যুতি থাকতে পারে।
আপনার প্রতি করোজোড়ে মিনতি একজন ক্ষমাশীল মানুষ হিসেবে, একজন নিরহংকার অভিভাবক হিসেবে, একজন সজ্জন মানুষ হিসেবে আপনার সম্পর্কে জনসাধারনের কাছে সমাদৃত এই গুনাবলীগুলো দিয়ে ভুল ত্রুটি গুলোকে ভুলে গিয়ে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখে অন্তত এ অঞ্চলের গনমানুষের দাবীটা পূরণ করুন।রাস্তাটা চলাচলের উপযোগী করুন।আপনি অনেক উন্নয়ন করেছেন কিন্তু এই একটি রাস্তার জন্য আপনার বাকী কাজগুলো সমালোচনার নিচে চাপা পড়ুক তা আমরা চাইনা।

কারন এই একটি রাস্তার কারনে নৌকার ঘাটি হিসেবে পরিচিত এ উপজেলায় জাতীয় নির্বাচন সহ সাধারন দলীয় প্রতীকের নির্বাচনগুলো আমাদের এ উপজেলার আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি নেতা কর্মীর জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। ভোটের জন্য মানুষের দুয়ারে গেলে এখন আর জবাব আমরা দিতে পারিনা মাননীয় মন্ত্রী।আশা দিতে দিতে এখন সাধারন ভোটারের সামনে পড়লে এই রাস্তার জন্য লজ্জায় মাথা হেট হয়ে আসে আমাদের মত কর্মী সমর্থকদের যারা প্রতিটি নির্বাচনে ভোটের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে যাই।বিগত উপজেলা নির্বাচনে এর প্রভাব আমরা হাড়েহাড়ে উপলব্ধি করেছি, শুধু তাই নয় প্রতিটি নির্বাচনেই আমরা এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি এবং বিরুধী দলগুলোও এই ইস্যুতে সুযোগ নিয়ে ভোটের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে যা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য খুব দুশ্চিন্তার,উৎকন্ঠার এবং শঙ্কার বৈকি ।আগামী নির্বাচনে আমরা কোন কথা কোন আশা কোন প্রতিশ্রুতি আর কি নিয়ে আমাদের কর্মীরা ভোটের জন্য সাধারন মানুষের কাছে যাবে মাননীয় মন্ত্রী ?

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়,
সবদিক বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই রাস্তাটির কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার জন্য আপনার সদয় পদক্ষেপ কামনা করছি।আমরা আশা করব আপনি বিশেষ এবং জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন করত এই জনপদের প্রতিটি মানুষের চাওয়ার মূল্যায়ন করবেন যে আশা নিয়ে মানুষগুলো আপনাকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সাংসদ নির্বাচিত করে আজ পূর্ন মন্ত্রী হবার সুযোগ করে দিয়েছেন। কাজটি সম্পন্ন করে নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে গিয়ে জগন্নাথপুরের প্রতিটি আওয়ামী কর্মী সমর্থকদের সাধারন ভোটারদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করে আগামী নির্বাচনে দায়মুক্ত এবং নির্ভার হয়ে কাজ করার পথ করে দেবেন।

পরিশেষে লেখার মাঝে কোন কথায় আপনাকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আমি ক্ষমা প্রার্থী আমাকে নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন। ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন।

মুরসিয়া, স্পেন।
২৭-০৬-২০২০

বিনীত
জুনেদ কামালী,
সাবেক সা.সম্পাদক,
৭নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ ও
সাবেক সদস্য, ইউ/পি ছাত্রলীগ।
সাবেক যুগ্ম আহবায়ক,
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ,
সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউ/পি শাখা
জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

বৃহত্তর জৈন্তা পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন‘র নির্বাচন সম্পন্ন

photo মোঃ হানিফ, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃবৃহত্তর জৈন্তা পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন রেজি নং-চট্ট-১৯০৯ এর ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিীপনার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি পদে মোঃ আব্দুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ মস্তফা কামাল নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহত্তর সিলেট‘র সবচেয়ে বড় এবং পুরাতন সংগঠন বৃহত্তর জৈন্তা পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন, এই

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment