আজ : ০৭:০৮, ডিসেম্বর ১৫ , ২০১৯, ১ পৌষ, ১৪২৬
শিরোনাম :

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয় জিম ইয়ং কিম

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:০৩:১০, অক্টোবর ১৯ , ২০১৬
photo

১৮ অক্টোবরঃ দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য সারাবিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়, অন্যদের জন্য অনুসরণীয়। আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবসে ঢাকায় এসে বাংলাদেশকে এভাবেই মূল্যায়ন করলেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। আগামী দিনের জন্যও শুভকামনা জানিয়ে বললেন, 'এগোও বাংলাদেশ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।'

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ঢাকায় এসে নতুন সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অপুষ্টি রোধে বাংলাদেশকে আগামী তিন বছরে ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়তা বাড়ানো হবে। আজ মঙ্গলবার সফরের শেষ দিনে জলবায়ু পরিবর্তনে সহায়তার পরিমাণ ঘোষণা করবেন তিনি।

পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর সামনে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার কারণে সে পরিস্থিতির অবসান হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে ১২০ কোটি ডলার অর্থায়ন করতে চেয়েছিল। দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে টানাপড়েনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দারিদ্র্য বিমোচন দিবসের মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের প্রশংসা বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেবে বলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে জিম ইয়ং কিম বলেন, অতিদারিদ্র্য কমাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা অন্য দেশ যাতে কাজে লাগাতে পারে, সে জন্য 'বহুপক্ষীয় দাতা তহবিল' গঠনের পরিকল্পনা করেছে বিশ্বব্যাংক। কিম বলেন, বাংলাদেশ নাটকীয়ভাবে অতিদারিদ্র্য কমিয়ে আমাদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশা, এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং অন্যান্য দেশ বাংলাদেশকে অনুসরণ করবে।

১০০ কোটি ডলার সহায়তা: শিশু পুষ্টি খাতে বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। আগামী দুই বছরে এ অর্থ দেওয়া হবে। সকালে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জিম ইয়ং কিম এ কথা জানান।


এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশকে আগামী তিন বছরে শিশুদের খর্বকায় হওয়া রোধে ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার আশা করেছেন সফররত জিম ইয়ং কিম। বাংলাদেশ শিশু মৃত্যুরোধে উন্নতি করলেও বেঁটে বা খর্বকায় শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এ অর্জন উদযাপন করতেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের আইডিএ তহবিল থেকে বিভিন্ন দেশকে যে পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হয়, তার আকার ৫০ শতাংশ বাড়বে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সহায়তার ফোকাস হবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করা। বিশ্বব্যাংকের টাকা ছাড়াই পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে তার অনুভূতি জানতে চাইলে জিম ইয়ং কিম জানান, 'আমরা বুঝতে পারছি বাংলাদেশের জন্য এই সেতুটি খুবই অপরিহার্য। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সহায়তার আগেই এর কাজ শুরু করে দেয় বাংলাদেশ সরকার।'

পদ্মা সেতুর অর্থায়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, 'এ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কিছু সমস্যা ছিল। সে বিরোধ মিটিয়ে ফেলেছি। বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।' মুহিত আরও বলেন, 'নিজস্ব অর্থে আমরা পদ্মা সেতু তৈরি করছি। বিশ্বব্যাংককে বলেছি, এ প্রকল্পে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। তাই অন্যান্য খাতের জন্য আরও বেশি সহায়তা দিতে হবে।' অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর তার হস্তক্ষেপে পদ্মা সেতু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সন, প্রধান অর্থনীতিবিদ পল রোমার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন আহমেদ, ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা, বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বব্যাংকের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে আসা কিম ঢাকায় নামেন রোববার বিকেলে। গতকাল সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি ৫০ মিনিট জাদুঘর ঘুরে দেখেন। আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য বরিশাল যাবেন কিম। ফিরে এসে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। বিকেলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিদায় নেবেন তিনি।

মূল আলোচনা: ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দারিদ্র্য বিমোচন দিবসের আলোচনার বিষয় ছিল, '২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূর করা :বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়'। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, 'বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, কীভাবে ব্যাপক অসচ্ছলতা অতিক্রম করতে হয়। উদ্ভাবন, অঙ্গীকার, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের ফলে এটা সম্ভব হয়েছে। তার বিশ্বাস, বাংলাদেশ এই অবস্থা ধরে রাখবে। ২০৩০ সালের মধ্যে অতিদারিদ্র্য দূর করতে পারবে।'

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এক দশক আগে থেকেই নারীর ক্ষমতায়নে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা অতিদারিদ্র্য দূর করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়। এখানকার নেতৃবৃন্দ এই যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পেঁৗছেছে যে, দেশের অর্ধেক জনগণকে বাদ রেখে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পুরোটা অর্জন সম্ভব নয়।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেন, ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর গড়ে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির ফলে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসছে। ১৯৯১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ২ কোটি ৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে। ২০১০ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার কমে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে, যা ১৯৯১ সালে ছিল ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ। তবে এখনও বাংলাদেশকে অনেক কাজ করতে হবে। ২০১০ সালের খানা জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে ২ কোটি ৮০ লাখ হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রোমার 'সবাইকে শেখার সুযোগ তৈরি করে দাও' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে রোমার শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি মনে করিয়ে দেন, মান বজায় রাখাই আসল।

প্যানেল আলোচনা: দারিদ্র্য বিমোচন দিবসের মূল অনুষ্ঠান শেষে উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আগামী দিনে পরিবেশে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন এবং শিক্ষা খাতও অধিক গুরুত্ব পাবে। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধিতে ৮২ শতাংশ অবদান বেসরকারি উদ্যোক্তাদের। আর এ প্রবৃদ্ধি অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়ায় দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, কয়েক বছরে নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে নারী সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত হয়ে কাজ করছেন।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল রোমার বলেন, সরকারের উচিত বাজারমুখী নীতি গ্রহণ করা। কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, বাংলাদেশে সুশীল সমাজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি সরকারের একাধিক নীতি গ্রহণে সুশীল সমাজ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। মোহাম্মদী গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা হক বলেন, ব্যয় কমানো বাংলাদেশের শিল্প খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। খরচ কমলে উৎপাদন বাড়বে। আলোচনা শেষে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, বাংলাদেশ মানুষের জন্য বিনিয়োগ করেছে। দারিদ্র্য বিমোচনে এর সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। এখন অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।



সাম্প্রতিক খবর

বুদ্ধিজীবি হত্যার অন্যতম নায়ক চৌধুরী মইনুদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে রায় কার্যকরের দাবী

photo লন্ডনঃ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বিজয়ের ঊষালগ্নে জাতিকে মেধাশূন্য করতেই সুপরিকল্পিত ভাবে জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের বেছে বেছে ঘর থেকে ধরে নিয়ে হত্যাকরা হয়,বুদ্ধিজীবি হত্যার মূল পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তানীদের দোষর আলবদর রাজাকার ও আলসামস বাহিনীর সদস্যরা। আর এর অন্যতম নায়ক ছিল তৎকালীন আলবদর কমান্ডার লন্ডনে পলাতক ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মইনুদ্দিন। একাত্তরের ঘাতক দালাল

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment