আজ : ০৫:১৫, জুলাই ৪ , ২০২০, ২০ আষাঢ়, ১৪২৭
শিরোনাম :

জৈন্তাপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, ২২ মেট্রিকটন চাল ও ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:০৫:৩১, জুন ২৮ , ২০২০
photo


জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ
সিলেট জৈন্তাপুর উপজেলায় অবিরাম ভারী ভর্ষণে ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার সবক‘টি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানি বন্ধি অবস্থায় রয়েছে। ৩দিন থেকে উপজেলার বন্যার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সারী ও বড়গাং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বড়গাং, শ্রীপুর, রাংপানি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলায় বন্যা দূর্গত এলাকায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা হিসাবে ২২ মেট্রিকটন চাল সহ মোট ২৬ মেট্রিকটন চাল এবং শুকনা খাবারের জন্য নগদ ৬৮ হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্যের জন্য আরো ২৪ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। বন্যার উপজেলার গ্রামীণ জনপদের বেশ কয়েকটি রাস্তাঘাট ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ও উপজেলা সহকারী কমিশার (ভূমি)) ফারুক আহমেদ বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। বন্যা দূর্গত অসহায় পানি বন্ধি জনগনকে ত্রাণ সহায়তার আশ্বাস দেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার ফারুক হোসেন জানান, উপজেলায় কৃষকদের ৩৫০ হেক্টর আউস ধান বন্যার পানিতে নিমজ্বিত।
নিজপাট ইউনিয়নের উপজেলা সদরের বন্দরহাটি, মেঘলী, তিলকৈইপাড়া নয়াবাড়ি, জাঙ্গলহাটি সহ বিভিন্ন এলাকা এবং পশ্চিম গৌরিশংকর, ডিবির হাওর, কামরাঙ্গীখেল, বাইরাখেল, হর্নি, কালিঞ্জীবাড়ি, দিগারাইল, নয়াগাতি, বারগতি, হেলিরাই, গুয়াবাড়ি সহ আরো অনেক এলাকায় পানি প্রবেশ করে। অনেকেই বসতঘরে পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন। জৈন্তাপুর উপজেলার কেন্দ্রী, শেওলারটুক,বাওন হাওর, বাউরভাগ, লক্ষীপুর, বিরাইমারা, লামনীগ্রাম, কাটাখাল গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। গ্রামীণ জনপদের অনেক রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। চিকনাগুল ইউনিয়নের কাটুয়াকান্দি, কাপনাকান্দি শিখারখাঁ গ্রামের অনেক মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। অনেকেই নৌকা দিয়ে চলাচল করছে।
দরবস্ত ইউনিয়ন নি¤œাঞ্চলের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ইউনিয়নের সেনগ্রাম, গর্দ্দনা, হাজারী সেনগ্রাম, তেলিজুরী, ছাত্তারখাই গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। কয়েকটি গ্রামীন রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, ফতেপুর ইউনিয়নের বালিপাড়া, লামাশ্যামপুর, দলাইপাড়া এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়ন নয়াখেল, বালিদাড়া, থুবাং, ভিত্রিখেল, সরুখেল সহ আরো অনেক গ্রামে পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চারিকাটা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দাগণ অনেকটা ঝুকির মধ্যে রয়েছেন। আকষ্মিক বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যজীবিদের ফিসারী তলিয়ে গেছে। বন্যায় কৃষকদের ধানের হালিরচারা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ বলেন, বন্যা দূর্গত এলাকার পানি বন্ধি মানুষের মধ্যে সরকারি সহায়তা হিসাবে শুকনো খাবার বিতরণ করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তিনি আরো বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলো সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের উচু এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোকে বন্যার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Posted in সিলেট


সাম্প্রতিক খবর

জৈন্তাপুরে একই দিনে ভাইরাসে আক্রান্ত ১৬

photo জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃসিলেট জৈন্তাপুর উপজেলায় কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসে আক্রন্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমানে জৈন্তাপুরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫জন। তার মধ্যে মৃত্যু বরণ করেছে ১জন, সুস্থ্য হয়েছেন ৪৮জন, নতুন নমুনা সংগ্রহ ৫ জন, ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে ২২জন। জৈন্তাপুরে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট কয়েকদিন থেকে না আসায় থমকে ছিল ফলাফল, বর্তমানে ১৮ দিন পরে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment