আজ : ০৫:৩৩, অক্টোবর ১৫ , ২০১৯, ২৯ আশ্বিন, ১৪২৬
শিরোনাম :

জয়তু শেখ রেহানাঃসুলতান মাহমুদ শরীফ

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:০৭:৫৭, সেপ্টেম্বর ১৫ , ২০১৯
photo

লন্ডনঃ১৩ই সেপ্টেম্বর শেখ রেহানার জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের এইদিনে তাঁর জন্ম। বাঙালির ভাগ্যবিধাতা ও আমাদের ত্রাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘরে মা ফলিজলাতুন্নেসার কোলে সমস্ত পরিবারটিকে আলোকিত করে এই পৃথিবীতে পদার্পন করেছিলেন তিনি। এর মধ্যেই ৬৪টি বছর চলে গেছে। এদিন গুলো তাঁর জন্য সুখকর ছিলো না সবসময়। পরিবার-পরিজন, আত্মীয় পরিবেষ্টিত হয়ে দাদা, দাদীর সোহাগ ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মা ভাই বোনদের স্নেহ-মমতায় বড় হয়েছেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে। পিতার দীর্ঘ কারাজীবন সংসার সন্তান নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের আগলে ধরে বেগম মুজিব প্রচুর পরিশ্রম করে, অনেক সহ্য করে, সন্তানদের, দলীয় কর্মীদের পালন করেছেন পরম মমতায়। তথাপিও নিজ সন্তানদের সুশিক্ষা দিয়ে, উৎকৃষ্ট মানুষ হিসাবে তৈরী করেছেন বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, আনন্দ উৎসব, নেতার জননন্দিত অবস্থান বিশ্ব দরবারে বাঙালির রাষ্ট্র সৃষ্টির বিস্ময়কর কৃতিত্ব, কখনই তাদের পারিবারিক জীবনকে আনন্দঘন রাখতে বাঁধার সৃষ্টি করেনি। এমনকি পুরো ৭১ সালের দীর্ঘ অবরুদ্ধ নির্যাতনমূলক কারাজীবনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সৈন্য পরিবেষ্টিত বন্দীজীবনও তাদেরকে কখনও হতদ্যোম করেনি। শিশুকালে শেখ রেহানাকে কাছ থেকে দেখার সুজোগ ছিলো না, কারণ আমি একাত্তর সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটিয়েছি। কিন্তু বাঙালির স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের দীর্ঘসংগ্রামে আমাদের জীবদ্দশার প্রতিটি মুহূর্ত যে পরিবারটি সমস্ত অন্যায় এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে গেছেন তাদের অনুপ্রেরণা নিয়ে, প্রবাসে থাকা অবস্থায়ও আমরা সকল প্রবাসীরা এই আত্মনিয়ন্ত্রন অধিকার সংগ্রামের সারথীর ভূমিকায় যথাসম্ভব সময়, সামর্থ ও শক্তি প্রয়োগ করে অংশগ্রহণ করেছি। একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বরে দেশ শত্রুমুক্ত অর্থাৎ পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে বাংলার মানুষের রাজনৈতিক ও ভৌগলিক স্বাধীনতা এসেছিল। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের মধ্যে বন্দী অবস্থা থেকে পালিয়ে শেখ কামাল, শেখ জামাল প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে বন্দী অবস্থা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। জাতির জনক পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী অবস্থায়ই বেগম মুজিব, শেখ হাসিনা তাঁর সদ্য জন্মলাভ করা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় শেখ রেহানা ও শিশু সন্তান রাসেল কারাগার থেকে মুক্তি পান। কলকাতা থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের মন্ত্রীদের কলকাতার দমদম বিমানবন্দর দিয়ে ঢাকায় আসার জন্য বিদায় দিয়ে আমি স্থলপথে আমার জন্মভূমি বরিশালে গিয়ে মা,কে সালাম জানিয়ে ঢাকায় আসি। সেখানেই অনেক অনেকদিন পরে কারাগারে রূপান্তরিত ধানমন্ডির ৮ নম্বর রাস্তার যে বাড়িটিতে সামরিক জান্তা তাদেরকে রেখেছিল সেই বাড়িটিতে তাদের পরিবার পরিজন সহ শেখ রেহানার সাথে আমার দেখা পাওয়ার সুযোগ হয়। বঙ্গবন্ধু ১৯৬৯ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে আগরতলা মামলায় তার পক্ষ সমর্থণ করে আইনজীবি পাঠিয়েছিলাম সে কথা স্মরণ করে ও তাঁর পক্ষে তার মুক্তির পক্ষে,বাংলার স্বাধীনতার দাবীর পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালনে অংশগ্রহণ করার জন্য সাধুবাদ জানাতে লন্ডনে আসেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়াকে নিয়ে সেইসময় আমার স্ত্রী নোরা ও আমি অন্যান্যদের সাথে মিলে তার পুরো সফরটা সঙ্গী হিসাবে থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম। ঢাকায় ফেরত গিয়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে আমাদের সম্পর্কে প্রচুর ভালো কথা হয়তো বলেছেন বিধায় ওই বাড়িতে পৌছার মুহূর্ত থেকে আমি যেনো তাদের পরিবারের একজন হিসাবে গণ্য হতে থাকি এবং পরম মমতায় আমার প্রতি তাদের স্নেহদৃষ্টিতে কোন কার্পণ্য আজ পর্যন্ত কখনও দেখিনি। খানিকটা এর ফলেই আমি, আমার স্ত্রী ও সন্তানরা শেখ পরিবারের স্নেহ মমতার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে আছি। পঁচাত্তরের নির্মম ঘটনার পরে নানা বাঁধা-বিপত্তির মধ্যেই আমার পরিবারটি লন্ডনে চলে আসার সুযোগ যখন পায় তখনও শেখ রেহানা লন্ডন আসতে পারেননি ভারত থেকে। তারপর যখন বিলেতে এসে অবস্থান শুরু করেন, তখন থেকে উনার সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ আমার পরিবারের হয়। পূর্ব ঘটনাগুলো না বললে আমার ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা উল্লেখ করা হতো না। রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধুর একজন কর্মী হিসাবে, একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসাবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নিয়োজিত একজন সহকর্মী হিসাবে আমাকে এবং আমার পরিবারকে গ্রহণ করে তিনি আমাদেরকে অশেষ কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করে রেখেছেন এই দীর্ঘসময়। তাঁর সাহচার্যের মধ্যে থেকে পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ যেখানে তিনি হারিয়েছিলেন তাঁর পিতা স্নেহময়ী মাতা, দুই ভাবী, দুই ভাই, ছোট ভাই রাসেলকে সেই অপরিসীম বেদনা নিয়েই তিনি দলীয় কর্মীদের দেশকে শত্রুমুক্ত করা, দেশদ্রোহী ঘাতকদের রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করার যে সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলেন তাতে পুরোপুরিভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিলো প্রবাসী বাঙালিদের। তাঁরই উৎসাহ উদ্দীপনায় ও তাঁর সাহসের উপর ভর করে ৭৬-৭৭ সালের সেই অন্ধকার দিনগুলোতে আমাদের পক্ষে একটি স্বৈরাচার পতনের সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়া সম্ভব হয়েছিলো। আজ এতো বছর পরেও সেই অন্ধকার দিনগুলোর প্রতিটি দিনে, প্রতিটি কাজে তিনি সাহস না যোগালে আমাদের পক্ষে ১৫ই আগস্টের বিশ্বাসঘাতকতার পর আসল দেশপ্রেমিক মানুষদের একত্র করা, সংঘবদ্ধ করা এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থা সৃষ্টিও হতো না।

বাঙালির পরম সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধু কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী, মানবতার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাধ্যতামূলক নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরে আসেন। শেখ রেহানা বিদেশে আমাদের একত্রিত হয়ে সংঘবদ্ধ হতে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছেন। দেশের ভেতরে লক্ষ, লক্ষ দলীয় কর্মী রাজনৈতিক কারণে জেলে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পরও সারাদেশে অলিখিত নেতৃত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা আমাদের প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিয়ে গেছেন ও উৎসাহিত রেখেছেন।

এই প্রবাসে আমাদের মধ্যে যারা সার্বক্ষণিকভাবে সংগ্রাম করে পাকিস্তানী হানাদারদের দোসর প্রথম মোস্তাক, তারপর জিয়া আর তারই পর এরশাদ এর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলো তাদের সকলকে শেখ রেহানা তার প্রভাব বলয়ের মধ্যে রেখে সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করে যাওয়ার জন্য পরিচালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আমাদের এই সংগ্রামে জয়ী হওয়া কখনও কখনও প্রায় অসম্ভব মনে হলেও শেখ হাসিনা, শেখ রেহানার উৎসাহ ও উদ্দীপনায় সাহস সঞ্চয় করে কাজ করতে আমাদের বেগ পেতে হতো না। আমাদের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবেই দেশের আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বড় কাজটি করতে সক্ষম হয়েছিলো। তাদেরই সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগের আপোসকামী নেতারা পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে সংগঠনের প্রধান হিসাবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের ইতিহাসকে আবার দৃঢ় ভিত্তিতে সঠিকপথে পরিচালিত করতে সক্ষম হয়েছিল। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন তার আন্দোলনের প্রধান সহায়ক হিসাবে প্রবাসে শেখ রেহানার অবস্থানও সুশৃঙ্খলভাবে প্রবাসের আন্দোলনকে পরিচালনা করার ফলেই অনেক ত্যাগ, অনেক জীবনদান, শেখ হাসিনার দীর্ঘ কারাজীবন ভোগ ও শেখ রেহানার সীমহীন কষ্টের পরিসমাপ্তি ঘটে ও স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের মধ্যদিয়ে দেশদ্রোহীদের প্রাথমিক পরাজয় শোচিত হয়। এরপরও একদিকে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র, আর্থিক সহায়তা অন্যদিকে রাজাকার শিরোমণিদের রাজনীতিতে পূনর্বাসনের যে প্রক্রিয়া ৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে শুরু হয়েছিলো তাকে উৎসাহ দিতে সামরিক জান্তার মাধ্যমে ফখরুদ্দিন, ইয়াজুদ্দিনদের সহায়তায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখল, রাজনৈতিক নেতাদের কারাবরণের মধ্যদিয়ে ২০০৬ এর মাঝামাঝি সময় থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্যাতন সহ্য করে বাংলার জনগণ স্বৈরশাসকদের একটি নির্বাচন দিতে বাধ্য করে। এরই ফলে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে মুক্তিকামী বাঙালির পক্ষ হয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, জননেত্রী আজকের বিশ্বের মানবতার নেত্রী সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। এই দীর্ঘপ্রক্রিয়ায় বাংলার মানুষকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালোদিন থেকে আজ পর্যন্ত অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে লাভ ও লোভের উর্দ্ধে থেকে পদ ও পদবীর প্রতি কোন খেয়াল না করে মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্র বাঙালি জাতিকে নিজ প্রিয়জন সন্তান-সন্ততি ভ্রাতৃপ্রতিম অবস্থানে নিয়ে এসে দেখভাল করার দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করে জনদরদী শেখ রেহানা বাঙালি জাতির প্রধান সহায়কের ও প্রকৃত বন্ধুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। আজকের এই দিনে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি ও তাঁর সুস্বাস্থ্যের জন্য পরম করুণাময় আল্লাহতায়লার কাছে প্রার্থণা করি।

লেখক: সুলতান মাহমুদ শরীফ,প্রবীন রাজনীতিবিদ,মোক্তিযোদ্ধের সংগঠক,সভাপতি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ।



সাম্প্রতিক খবর

হিজড়াদের চাঁদাবাজি মধ্যরাতে বিভিন্ন স্পটে বসে দেহব্যবসা

photo ওসমানীনগর (সিলেট)প্রতিনিধিঃসিলেটের ওসমানীনগরে হিজড়াদের ওপেন দেহ ব্যবসা ও বখশিসের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ট হয়ে পেরেছেন এলাকাবাসী। প্রতি দিন মধ্য রাতে উপজেলার গোয়ালাবাজার, তাজপুরবাজার সহ বিভিন্ন বাজারে বসে দেহব্যবসায়ী হিজড়াদের ভাসমান হাট। হিেিসবে উটতি বয়সী ছেলে স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্র যুবক সহ বিভিন্ন বয়সী পুরুষদের খদ্দের হিসেবে ব্যবহার করছে হিজড়ারা।

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment