আজ : ০২:০৭, জানুয়ারি ২৯ , ২০২০, ১৫ মাঘ, ১৪২৬
শিরোনাম :

চার বাঙ্গালী নারীর লন্ডন জয় সাধারন নির্বাচনে কনজারভেটিভের হ্যাট্রিক লেবারের শোচনীয় পরাজয় ব্রিটেনের ইউ থেকে বেরিয়ে আসতে আর কোন বাধা নেই

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:১২:০১, ডিসেম্বর ১৩ , ২০১৯
photo


মতিয়ার চৌধুরীঃগতকাল ১২ ডিসেম্বর ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে ৩৬৪টি আসন পেয়ে হ্যাট্রিক করেছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটি দল, অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবারের শোচনী পরাজয় হয়েছে। আর এই নির্বাচনে লন্ডন জয় করেছেন চার বাঙ্গাল নারী। এবারের নির্বাচনে ক্ষমত্সীন কনজারভেটিবের আসনে বেড়েছে ৪৭টি, লেবার দলের কমেছে ৫৯টি, লিবারেল ডেমক্রেটের কমেছে ১টি, মোট ৬৫০ আসনের মধ্যে রক্ষনশীল দল কনজাভেটিব পেয়েছে ৩৬৪টি, লেবার ২০৩, ক্সটিশ ন্যাশনাল দল ৪৮টি তাদের আসন বেড়েছে ১৩টি, লিবারেল ডেমক্রেট পেয়েছে ১১টি কমেছে ১টি, অন্যান্য দল পেয়েছে ১৫টি আসন। ব্রিটেনকে ইউরাপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসতে আর কোন বাধা থাকলনা, জানা গেছে ৩১জানুয়ারীর মধ্যেই ব্রেক্সিট সম্পন্ন হবে। পরাজয় মেনে নিয়ে লেবার লিডার জেরেমি করবিন দলের নেতৃত্ব থেকে সরে আসার ঘোষনা দিয়েছেন,নেতৃত্বে রদবল আসছে লিবারেল ডেমেক্রেট দলেও।

এই নির্বাচনে দশ জন বাঙ্গালী প্রতিদন্দিতা করলেও ৪জন হাউজ অব কমন্সে প্রবেশের সুযোগ পেলেন তারা হলেন জাতির জনকের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক, রুনারা আলী , রুপা হক ও আপনাসা বেগম, সকলেই প্রধান বিরোধী দল লেবারের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন গ্রেটার লন্ডন থেকে।


রুশনারা আলী
পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের টানা তিনবারের এমপি সিলেটের বিশ্বনাথের মেয়ে রুশনারা আরও পাঁচ বছর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে থাকার সুযোগ লাভ করলেন এবারে তিনি পেয়েছেন ৪৪,০৫২ ভোট তার নিকটতম প্রতিদন্ধি টোরী দলের নিকোলাস পেয়েছেন ৬৫২৮ভোট। বাঙালি ভোটারদের সংখ্যাধিক্যের কারণে এ আসন লেবার পার্টির জন্য নিরাপদ হিসাবে বিবেচিত। ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক।২০১৭ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির চার্লট চিরিকোর চেয়ে ৩৫ হাজার ৫৯৩ ভোট বেশি পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস বারার অধীন রুশনারার আসনটি লেবার দলের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাধারণ এক কর্মজীবী বাঙালির মেয়ে রুশনারা পরিবারের প্রথম সদস্য, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। তিনি দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ডিগ্রি নিয়েছেন অক্সফোর্ডের সেইন্ট জন’স কলেজ থেকে। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে রুশনারা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও শিক্ষাবিষয়ক ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পার্লামেন্টারি ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির সদস্য ছিলেন। কনজারভেটিভ সরকারের আমলেও তিনি বাংলাদেশ-বিষয়ক বাণিজ্য দূতের দায়িত্ব পালন করেন।

রূপা হক
লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন থেকে টানা তৃতীয় বারের মত বিজয়ী হলেন রুপা হক, রূপা হকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা লন্ডনে; বাংলাদেশে আদি বাড়ি পাবনায়। ৪৮ বছর বয়সী রূপা অল্প ভোটের ব্যবধানে হলেও ২০১৫ সালের নির্বাচনে রক্ষণশীলদের হাত থেকে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। ২০১৭ সালের নির্বাচনেও তিনি ব্যবধান বাড়িয়ে আসনটি ধরে রাখেন। রূপ হক কেমব্রিজে রাজনীতি, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন পড়েছেন। তিনি পড়াচ্ছেন সমাজবিজ্ঞান, অপরাধবিজ্ঞান, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি অধ্যায়নের মতো বিষয়। শিক্ষক রূপা এর আগে ডেপুটি মেয়র হিসাবে স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন। লেখক, মিউজিক ডিজে, যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রধান দৈনিকের কলামনিস্ট রূপার ছোট বোন কনি হক বিবিসির ব্লু পিটার শো উপস্থাপনার কল্যাণে ব্রিটিশদের কাছে খুব পরিচিত নাম। এবারেও তিনি বিশাল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হলেন।
টিউলিপ সিদ্দিক
উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের হ্যামস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। টানা তৃতীয় বারের মত বিজয়ী হয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ ২০১৫ সালে লেবার পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হন। পরের দফায় ২০১৭ সালের নির্বাচনে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন।
একদিকে পারিবারিক পরিচয়, অন্যদিকে লন্ডনের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে প্রার্থিতার কারণে টিউলিপ সব সময়ই আলোচনার কেন্দ্রে। ৩৭ বছর বয়সী টিউলিপ সিদ্দিককে পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। টিউলিপ প্রথমে ইংরেজি এবং পরে রাজনীতি, নীতি ও সরকার বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আফসানা বেগম
টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসন থেকে লেবার পার্টি থেকে এবার প্রথম বিজয়ী হলেন হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আফসানা বেগম।এই আসনের দুই দশকের লেবার পার্টি এমপি সাবেক মন্ত্রী জিম ফিটজপেট্রিক চলতি বছরের শুরুর দিকে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন। লেবার দলের নিরাপদ এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে লড়াইয়ের মধ্যে অনেকটা চমকে দিয়ে প্রার্থী হলেন অপেক্ষাকৃত তরুণ এ বাঙালি কন্যা।
আফসানার জন্ম ও বেড়ে ওঠা টাওয়ার হ্যামলেটসে হলেও বাংলাদেশে তাদের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের লুদরপুর গ্রামে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আবাসন বিভাগে কর্মরত আছেন তিনি। তার পিতা প্রয়াত মনির উদ্দিন আহমদও ছিলেণ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র। বাঙ্গালী অধ্যুসিত লেবার দলেই সেইভ সিটি হিসেবে পরিচিত আফসানা বেগম ৩৮হাজার ৬৬০ ভোট পেয়ে প্রথম বারের মত হাউজ অব কমন্সে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। তার নিকটতম প্রতিদন্দি কনজারভেটিবের অলোয়া শন পেয়েছেন ৯৭৫৬ ভোট। এবারের সাধারণ নির্বাচনে সর্বমোট ৬৫০ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা হচ্ছে চার কোটি ৬০ লাখ। বিভিন্ন দলের ৩ হাজার ৩২২ জন প্রার্থী প্রতিদন্দিতা করেন।



সাম্প্রতিক খবর

মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে যুবলীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

photo লন্ডনঃমুজিববর্ষ -২০২০ উদযাপন উপলক্ষে লন্ডনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও মুজিব বর্ষকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে l সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জন্মশত বার্ষিকী

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment