আজ : ০৬:২৮, জুন ৪ , ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
শিরোনাম :

কভিড ১৯ ও শেখ হাসিনাঃবাবুল রহমান

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:০৩:২৪, মে ১৩ , ২০২০
photo


আজ সারাবিশ্ব কেমন অভিমানী ভাব নিয়ে স্হবির হয়ে পড়েছে।পৃথিবীটা সুখ দুঃখের কথা শুনছেনা,নিশ্চয়ই আমরা গুরুতর অবিচার করেছি এই আসমান ও জমিনের উপর।প্রকৃতিটা কেমন প্রতিশোধ নিতে ব্যস্ত,ভালোবাসা কেড়ে নিয়ে আতংকের জন্ম দিয়েছে।এই যান্ত্রিক জীবন সমাজ সংসারে এমনিতেই প্রেম ভালোবাসা নেই তার উপর বর্তমানে নাফছি নাফছি চলছে।

যে নামেই ডাকি ঈশ্বর ভগমান আল্লাহ তিনি সবই দেখছেন শুনছেন,তিনি এই ব্যভিচার হয়ত আর মেনে নিতে পারছেন না।সিরিয়া বসনিয়া ইয়েমেন ইরাক বা বাংলাদেশের কোন অত্যাচারিতের করুন আর্তনাদ হয়ত গ্রহন করেছেন,মৃত্যুর করুন যন্ত্রনায় তনু রাফি ফেলানীসহ অনেকেই হে আল্লাহ তুমি সাক্ষি থেকো বলেছে অথবা বিশ্বজিত ঈশ্বরের কাছে নালিশ করে গেছে,আজ তাই আমার আল্লাহ তোমাদের ভগবান বা ঈশ্বর বসে নেই।কঠিন এই মহামারী দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন তিনি কত শক্তিশালী,অদৃশ্য এই ভাইরাসের কাছে তোমরা ধরাশায়ী।

তোমরা গরীবের হক মেরে নিজে ভোগ বিলাসে মত্ত,তোরা অন্যায় উশৃঙ্খল হয়ে সরকারকে কবজা করে সব লুটিয়ে মানুষদের হক বিনষ্ট করতে মত্ত। তোরা ধঃস্ব হো,তোমাদের আর অধিকার নেই আল্লাহ সৃষ্ট জমিনে।

তোমরা কি বুঝনা এই সুবিশাল আসমান ও জমিন কে তৈরী করেছে,তোমরা কি দেখোনা কোন ধরনের সাপোর্ট ছাড়াই মহান স্রষ্টার নীল আসমান দাড়িয়ে আছে...!

আল্লাহ কোরআনুল করিমে বলেন আমার তন্দ্রা নিদ্রা কিছু নাই,আমি তোমাদেরকেই দেখতে পাই,তোমরা আমার কুদরতি কি মানো না,আমার কোরআনে সব লিখা আছে তাও তোমরা মানো না।তোমরা এই বিশাল ধনসম্পদ দিয়ে কি মৃত্যু ঠেকাতে পারবে অথবা আয়ুকাল কিছুটা বৃদ্ধি করতে পারবে।
আল্লাহ আরো বলেন তোমাদের পূর্বে বহু জাতিকে ধঃস্ব করেছি,আমি তাদেরকে গোমরা করে রেখেছি,আজ তোমরা যে ইয়া নাফছি করছো ছোট্ট একটা ভাইরাসের জন্য কিয়ামতের বিভীষিকাময় কঠিন দিনের কথা জেনে নাও।

এই বিশাল পৃথিবীর মালিক হয়ত উনার পৃথিবীটা ফেরত চাইছেন,আসমান জমিনের সাথে মিশিয়ে সব ধঃস্ব করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাচ্ছেন।তিনি কি এভাবেই চলতে দেবেন,লক্ষ কোটি মরনাস্ত্র ব্যবহার করে মানবজাতির অনিষ্ট করছো,একক আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে তাবৎ দুনিয়ার পরিবেশ নষ্ট করছো,প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিলিন করছো,যে অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে আছো তা কি তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত না।আজ এই অক্সিজেনের জন্য দিকবিদিক ছুটে আমার কাছে ফিরে আসছো।

যে শ্রমিকের ঘামের সাথে মিশে আছে তোর পাহাড় সমান উঁচু অট্টালিকা,সেই শ্রমিকতো তোকে বানাতে পারি,শুধু দেখলাম তোদের বিচার।প্রত্যেকের আগমনের আগে রিজিক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেই নির্ধারিত রিজিক ভোগ করেই স্রষ্টার কাছে ফেরত।পাহাড় সমান অট্টলিকাতে অথবা কুঁড়েঘরে মৃত্যু হলেও সেই সাঁড়ে তিন হাত বরাদ্ধ আছে।

এই অসংখ্য মানুষের আর্তনাদ শুনেও বসে আছেন মহান রব ভাবলেন হয়তো ফিরে আসবে সঠিক পথে,নাহ্ এইসব কিছুতেই তোরা ভয় পাস না,এবার পৃথিবীটা ফেরত চান,ঠেকাতে পারবে.!
আল্লাহ খোদা,ভগবান বা ঈশ্বরের করুণা থেকে বঞ্চিত করেছেন,তোরা মসজিদ মন্দির গীর্জায় গিয়ে কি হবে,তোরা মানুষকেই ভালোবাসতে জানলি না,আল্লাহকে কেমনে ভালোবাসবে।মসজিদ মন্দির সব উপাসনালয় আজ অরক্ষিত রেখেই জীবন নিয়ে উদগ্রীব,ঘরে বন্ধি থাকলে কি মালাকুল মাউত প্রবেশ দ্বার খুঁজে পাবেনা.!
এসব শাষক শোষক লোটেরাদের মৃত্যু সম্পর্কে মোটেও ধারণা নেই,মানুষের হৃদয়ের আহাজারি শুনতে পেলে কষ্ট দিতো না, দ্বারে দ্বারে খাদ্য পৌঁছায়ে দিত।নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা,বোমা মেরে কোলের সন্তানকে মরতে হতো না। সেই মা’য়ের চোঁখের পানি কি আল্লাহ সহ্য করতে পারেন,আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেননি ধঃসাত্বক কাজে নিয়োজিত রাখতে।
এ মৃত্যু থেকে বাচঁতে হলে আল্লাহের নবীর কথা স্মরণ করতে হবে,যেখানে মহামারী দেখা দিয়েছে সেখানে যাবে না এবং ওখান থেকে ফিরে এসেও ছড়াওনা।অর্থাৎ ঘরে থাকতে হবে তবে বাংলার খেটে খাওয়া মানুষদের কি হবে। সরকারী উদ্দোগে প্রতিটি ঘরে যেন অন্তত তিন মাসের খাদ্য পৌঁছানো হয়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার লোটেরা চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলারদের লাগাম টানুন,ওরা সব লুটেপুটে খাচ্ছে।

মধ্যবিত্ত যারা কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করছে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে যাবেনা,রাতের আঁধারে পৌঁছাই দিতে পারেন।অনেক ব্যবসা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে তাদেরকে এককালিন অর্থ সহায়তাসহ বিনা সুদে ব্যাংক লোন দিয়ে সাহায্য করুন।আপনি পারবেন আমার বিশ্বাস তবে বিলম্ব না করে দ্রুত পদক্ষেপের ব্যবস্হা নিতে পারেন।

ব্যাংক বীমা সব উজাড় করে ফেলেছে ঐসব রাক্ষুষের দল এবার তাদের কাছ থেকে কিছুটা হলেও উদ্ধার করে বাংলার সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠির পাশে দাঁড়ান।মনে রাখবেন দূর্ভিক্ষ বলে আসবেনা,আপনার চারপাশেই হয়ত ওরা ঘুরঘুর করছে দেশকে কঠিন অবস্হায় ফেলে সুযোগ নিতে।চুয়াত্তরের দূর্ভিক্ষ ও পরবর্তি লোটেরা শ্রেণীর তান্ডব নিশ্চয় আপনার মনে আছে।একশ্রেণীর লোক আছে সরকারে থেকেই দূর্ভোগ চলে আসতে দিনরাত কাজ করবে,ঐসব মুনাফেকদের চেনা বড় কষ্টের।
বড় বড় সব হাসপাতালের মালিক বর্তমানে আপনার দলের লোক,সেবা কতটুকু দিচ্ছে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
এখনি সতর্কতা অবল্মবন না করলে শেষে ইউরোপ আমেরিকার অবস্হা হলে সামাল দেয়া মুশকিল হবে।রাস্তায় লাশ পড়ে থাকবে কবর দেবার মানুষ থাকবেনা।মসজিদ মন্দির সব বন্ধ রেখে মানুষ বাঁচাতে হবে,নতুন আলেমদের ফতুয়া শুনে লাভ নেই।মরতে হবে সবাই তবে যতটুকু সাবধানতা দরকার সেটা প্রত্যেকটা নাগরিকের সুনিশ্চিত করতে সরকারের প্রজ্ঞাপণ ও আরো কঠোর হতে হবে।ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়,মানুষ অনাহারে মারা গেলে হবেনা।ঘরে খাদ্যাভাব হলেই বের হবে অন্নের সন্ধানে,তাদেরকে লকডাউনের আওতায় রাখতে হলে অবশ্যই ডাল ভাতের ব্যবস্হা করতে হবে।বাংলাদেশের পুলিশ সেনা সদস্যদের স্যালুট দেই তারা জনসেবায় নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রেখে দৃষ্টান্ত রাখছে অবশ্য প্রতিটি দূর্যোগে বাংলার সূর্য্যসন্তান বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সেবা প্রশংসনীয়।এমপি মন্ত্রীরা সরকারের প্রজ্ঞাপণের দোহাই দিয়ে ঘরথেকে বের হচ্ছেনা,শপথের সময় যেগুলো বলে শপথ নেয় সেটা তোয়াক্কা খুব একটা করেনা।মুজিব কোট গায়ে দিয়ে ভোট চাইতে দ্বারে দ্বারে যায় বৌ বাচ্চাসহ আজ সেসব অবহেলিত নাগরিক কেমনে আছে খবর রাখছেনা,ওরাতো দুমোটো ভাতের জন্য হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে।আপনার বহু নেতারা সম্ভবত রাতেও মুজিব পরে ঘুমায় কিন্তু শেখ মুজিবুর রাহমানের বাংলার খেটে খাওয়া মানুষদের আজ কি অবস্হা জানে না,ওরা শুধু তোষামোদেই ব্যস্ত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনাহারে অর্ধাহারে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়লে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবেনা,মন্ত্রীত্ব কই যাবে সেটা বলতে গেলাম না তবে দেশ এক অন্ধকার রাজ্যে পরিণত হবে।চুরি ডাকাতিসহ ব্যভিচার আরো বহুমাত্রায় বেড়ে যাবে,দেশ চালাতে হিমশিম খাবেন।
আজকের এই মহামারীতে বিশ্ব মন্দাবস্হার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশের উপর প্রভাব যে ফেলবেনা তা বলা যাবেনা।উন্নত বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ চাকুরী হারাতে বসেছে,আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের উপর কয়েক লক্ষ লোকের জীবিকা,ইতিমধ্যেই কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের অর্ডার বাতিল হয়েছে এমতাবস্থায় অনেকের ব্যবসার ধস নামবে।
মুলকথা এই অদৃশ্য জীবানূ খোদার রাজ্যটাকে উলট পালট করে দেবে,অনেক দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়বে,গুটিকয়েক দেশ পূর্বাবস্হায় যেতে পারলেও বাকিদের সন্দেহ আছে।সামান্য কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে বিরাট অংশের টাকা চলে যাবে বাকি সব এক কাতারের অধিবাসী হবেন।
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে কিন্তু এই কৃষকদের যদি বিভিন্ন শর্তে ঋণ দেন তবে মধ্যস্বত্বদের দৌরাত্বের কাছে তাদের সব শেষ হতে হয়,ফসল বিক্রী করে নিজে চলতে পারেনা পরিশোধ কেমনে করবে।কৃষিখাতে বড় অংকের ভর্তুকি দিয়ে হলেও দেশ বাঁচান।পৃথিবীর সব দেশেই হাহাকারের পুর্বাভাস মিলছে আমাদেরকেও প্রস্তুত হতে হবে।আল্লাহ আপনাকে সেই শক্তি ও মনোবল দেন,আপনিসহ বাংলাদেশ ভালো থাকুক।

কলামিষ্ট,বাবুল রহমান
,লন্ডন।

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

নিলা তুমি যেওনাঃবাবুল রহমান

photo ভালোবাসা ও পছন্দের মানুষগুলো শ্বাসরোধ করেই থেমে থাকেনা,আমেরিকার জর্জ ফ্লোয়েডের মত মৃত্যু নিশ্চিত করেই যেতে চায়।অনুভূতির জায়গাটি নিয়ে খেলতে আগ্রহী,ভেবে দেখেনা মানুষটি কত কষ্ট পাবে।পাথরের তৈরী মন হলে সেখানে আঘাতে কিছু হবেনা কিন্তু হৃদয়টা যে এমন অল্পতেই নষ্ট হয়,কষ্ট লাগে বড্ড। নিলার সাথে পরিচয় জর্ডানের ট্রান্জিট লাউন্জে,সেইথেকে টুকটাক মেসেজ দেয়া নেয়া এবং অন্তরঙ্গ।বেশদিন

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment