আজ : ১১:৫৪, জুলাই ৫ , ২০২০, ২১ আষাঢ়, ১৪২৭
শিরোনাম :

উন্নয়নের স্বর্ণযুগের চলমান প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সাথে থাকবে উত্তর আয়ারল্যান্ড

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:১১:৪৮, সেপ্টেম্বর ৮ , ২০১৯
photo


বেলফাস্টঃযুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টাডি সার্কেল আয়োজিত‘বাংলাদেশ : এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে উত্তর আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য মার্টিন-ও-মোয়েলার এ কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শুধু তাদের জীবনই বাঁচায়নি মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে।উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য অভাবনীয়।

গত বৃহস্পতিবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট অ্যাসেম্বলির স্টরমনট বিল্ডিংয়ের লং গ্যালারিতে উত্তর আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য মার্টিন-ও-মোয়েলার, ক্রিস লিটল, মাইক নেসবিট এবং স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলীর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে আয়োজিত হয় স্টাডি সার্কেলের সেমিনারটি।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী,প্যানেল স্পীকার হিসেবে ছিলেন লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার জুলকার নাইন, , নর্দান আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য মার্টিন-মার্টিন-ও-মোয়েলার, সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আর্ন্তজাতির্ক বিষয়ক সম্পাদক ড:শাম্মী আহমেদ,এবং জিম ওয়েলস এমএলএ।

তিনটি পর্বে বিভক্ত প্রথম পর্ব পরিচয় পর্বের পরেই দ্বিতীয় পর্বে ছিল বাংলাদেশের উন্নয়নের বিগত ১০ বছরের সাফল্য নিয়ে আলোচনা।এতে প্রাধান্য পায় স্টাডি সার্কেলের পরিচিতি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জেন্ডার সমতা, রোহিঙ্গা সমস্যা, আইন ও বিচার ব্যবস্থা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাত সহ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসমুহ।

স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলীর পরিচালনায় আলোচনার শুরুতে নর্দান আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য জিম ওয়েলস এমএলএ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলদেশ এখন বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল নক্ষত্র রূপে আবির্ভূত। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং যাত্রা সম্পর্কে আমাদের জানার অনেক কিছু রয়েছে এমন আয়োজন বাংলাদেশকে জানতে এবং পরিচয় করিয়ে দিতে আরও সহায়ক হবে।

স্টাডি সার্কেলের গবেষক সাজিয়া স্নিগ্ধা নারীর ক্ষমতায়ণ ও জেন্ডার সমতায় বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি নারীর সামর্থ্য উন্নীতকরণ, নারীর অর্থনৈতিক প্রাপ্তি বৃদ্ধিকরণ, নারীর মতপ্রকাশ ও মতপ্রকাশের মাধ্যম সম্প্রসারণ এবং নারী উন্নয়নে পরিবেশ সৃষ্টিকরণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকার এবং সরকার প্রধান শেখ হাসিনার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসমূহ তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথি ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আত্মবিশ্বাসী একটি জাতি। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু যেমন বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তেমনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙ্গালি জাতিকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছেন। ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’র অনেকগুলো লক্ষ্য অর্জনের সাথে-সাথে অতি দরিদ্র অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে কাজ করেছে। দারিদ্রমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত ‘রূপকল্প- ২০২১’ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে।

ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ জুলকার নাইন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ তুলে ধরেন। সুপ্রীম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে আইনের সুশাসনে বর্তমান বিচার ব্যবস্থা যুগান্তকারী কাজের কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাম্মী আহমেদ রোহিঙ্গা সংকট ও সমাধানে বাংলাদেশের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় বলেন, মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ ভয়ার্ত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে মানবিকতার বিরল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন।বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের সৈকতে যারা পালিয়ে এসেছিলো তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল শিশু।তাদের খাদ্য , শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, বাসস্থানের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধার সুব্যবস্থা বাংলাদেশ করেছে। পাহাড়ি বনভূমি উন্মুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহত আশ্রয় শিবির।কিন্তু রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও চাপ দেয়াকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানান আলাপ-আলোচনা হচ্ছে কিন্তু উদ্যোগের ব্যপারে আন্তর্জাতিক মহলকে আরও সচেষ্ট হওয়ার আহবান জানান তিনি।

এছাড়াও সৈয়দ মোজাম্মেল আলী গত ১০ বছরে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, জিডিপি গ্রোথ, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেয়া,বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন, সাড়ে তের হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা , নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু সহ মেগা প্রজেক্ট, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভুত উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন।বর্তমান সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের থিনট্যাঙ্কদের কাছে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিস্ময়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল প্রশ্ন উত্তর সেশন। এ সময় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য সম্পর্কে প্যনেল স্পীকারদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। যার মাঝে উল্লেখযোগ্য ব্রেক্সিট পরবর্তী নর্থান আয়ারল্যান্ড এর অবস্থা,এমডিজি সফলতায় বাংলাদেশ,বাংলাদেশের এসডিজি প্ল্যানিং, রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক মহলের তৎপরতা ,স্টাডি সার্কেলের কাজের পরিধি ইত্যাদি।পরিশেষে জামাল খান, সেলিম খান , আলা উদ্দিনের ধন্যবাদ জ্যাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে সকলের হাতে বাংলাদেশের বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাঁটের তৈরি ব্যাগে স্টাডি সার্কেলের প্রকাশনা 'বাংলাদেশ এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট', বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ইংরেজি ভার্সন এবং স্টাডি সার্কেলের সুভেনিওর প্রদান করা হয়।
সেমিনারে নর্দান আয়ারল্যান্ড এসেম্বলির মেম্বারসহ ব্রিটিশ-বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী,কূটনীতিকবৃন্দ, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং লন্ডন কমিউনিটির ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবী বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।এর মাঝে উল্লেখযোগ্য ক্লেয়ার হান্না এমএলএ, জন ডাললাত এমএলএ,প্যাট কাটনি এমএলএ, এমএলএ, কনন ভেগহে এস ইউ প্রেসিডেন্ট কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট,এনি টহিল হেড অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন এক্সিকিউটিভ অফিস,প্রফেসর সিনক্লিয়ার স্টকম্যান হনরারি কাউন্সেল ফর নিউজারল্যান্ড,প্যাটরিক ইউ সেক্রেটারি নর্থান আয়ারল্যান্ড এনআই কাউন্সিল রেস ইকুয়ালিটি,বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর জাকারিয়া হক , কলেট ফিটজজেরাল্ড হেড অফ ইউ কমিশন রিপ্রেজেন্টেটিভ নর্থান আয়ারল্যান্ড,জোনাথন সটুআর্ট নর্থান আয়ারল্যান্ড ডিরেক্টর ব্রিটিশ কাউন্সিল , জ্যাক্লিন ইরিন সিইও কমিউনিটি রিলেশনস কাউন্সিল, জিনা ম্যাকলিনটায়ার সিইও স্পেশাল ইউ প্রোগ্রাম বডি, গ্লেন ম্যাকমোহান বেলফাসট মেট্রোপলিটন কলেজ,ডগলাস এডামস সিইও হেলথ ,নিশা টেন্ডন, ব্রায়ান ওকলি ইউএস কনসুলেট রিপ্রেজেনটেটিভ,ফ্রাঙ্কি লিডি, জেরাল্ড রাইস,লররাইন বয়োড রিজিওনাল ম্যানেজার ইন্টারকালচার,ক্রিস ব্রাউন, নিয়াল ফিল্ডস, রোজা ও ফারেল,সুলতান মাহমুদ শরিফ , সাজেদুর রহমান ফারুক,ডঃ ওয়াসিফ নাইম,শুয়েব মিয়া, আব্দুল আহাদ চৌধুরী ,মিসবা সাদাত, রেখা ফারুক, সালমা আলাউদ্দিন,আনসার আহমেদ উল্লাহ,রাজিব হাসান প্রমুখ।



সাম্প্রতিক খবর

Prime Minister Sheikh Hasina is delivering post-Covid public health services

photo Ansar Ahmed Ullah::”Under the prudent and visionary leadership of Prime Minister Sheikh Hasina, Bangladesh is delivering public health services and humanitarian emergency aide to our people's door step, utilizing ‘GovTech’ and ‘DevTech’ under her ‘Digital Bangladesh’ vision'', said Bangladesh High Commissioner Saida Muna Tasneem at the virtual Commonwealth Leaders meeting on the COVID-19 crisis earlier this week. Presidents, Prime Ministers and Foreign Ministers of 30 Commonwealth member countries including Nigeria, Kenya, Belize, Bahamas, Uganda, Tanzania, Guyana, and the Gambia attended the meeting. High Commissioner Tasneem was speaking at the virtual Commonwealth Leaders meeting as a representative of Prime Minister of Bangladesh. She briefed the Commonwealth leaders about Prime Minister Sheikh Hasina's post-Covid innovative digitalization initiatives in public services including 333-digital helpline for emergency health

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment