আজ : ০২:৫৯, জুলাই ২৯ , ২০২১, ১৩ শ্রাবণ, ১৪২৮
শিরোনাম :

আলতাব আলী হাউজ আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করলেন মেয়র

বিশ্ববাংলানিউজ২৪

আপডেট:১২:৫০, মে ২৭ , ২০২১
photo


মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান::পূর্বলন্ডনে ১৯৭৮ সালে ৪ঠা মে বর্ণবাদীদের হাতে নৃশংসভাবে নিহত বাঙালি যুবক আলতাব আলীর নামে অবশেষে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের একটি নির্মানাধীন আবাসিক ভবনের নামকরণ করা হয়েছে।

তারও আগে ১৯৯৮ সালে লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসে বাঙালিদের দাবীর মুখে হোয়াটচ্যাপলের সেন্টমেরীজ পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল ‘ আলতাব আলা পার্ক’ ।
১৯৯৯ সালে আলতাব আলা পার্কে স্থাপিত হয়েছে শহীদ মিনার।
শুধু তাই নয় এডলার স্ট্রীট বাস স্টপের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল ‘ আলতাব আলী বাস স্টপ ‘।
আর ২০১৫ সাল থেকে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিবছর আলতাব আলীর মৃত্যু দিবস ৪ঠা মে এই দিনে ‘ আলতাব আলী দিবস ‘ পালিত হয়ে আসছে।

২০২১ সালে এসে স্মরণ ও স্বীকৃতির পালকে এবার যুক্তরাজ্যের পূর্বলন্ডনের ওয়াপিংয়ে নির্মানাধীন একটি আবাসিক ভবনের নামকরণ করা হলো ‘আলতাব আলী হাউজ’।


বুধবার (২৬ মে ২০২১) নির্মানাধীন ‘আলতাব আলী হাউজ’ এর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র জন বিগস।
২০০০ নতুন কাউন্সিল হোম নির্মানের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পূর্বলন্ডনের ওয়াপিংয়ে নির্মানাধীন এই ভবনের নামকরণ করা হয় ‘আলতাব আলী হাউজ’ ।

এই ভবন হবে তরুণ প্রজন্মকে অন্যায় অসাম্য এবং ত্যাগের ইতিহাস সম্পর্কে জানার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
১৯৭৮ সালে ৪ঠা মে হোয়াইটচ্যাপল পার্কের (বর্তমান আলতাব আলী পার্ক) কাছে বর্ণবাদীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসা যুবক আলতাব আলী। তাঁর এই হত্যাকান্ড সেদিন বাংলাদেশী কমিউনিটি সহ বৃহত্তর কমিউনিটিকে জাতিগত অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছিলো।

১৯৭৮ সালে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে মানুষের সেই উত্থানের ৪০ বছর পর, গত বছর পুলিশের হাতে নির্মমভাবে নিহত জর্জ ফ্লয়েডের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় সারা বিশ্বে শুরু হওয়া ব্ল্যাক লাইভস মেটার আন্দোলনের বর্ষপূর্তির দিনে এভাবেই স্মরণ করা হলো আলতাব আলীকে।

আলতাব আলী থেকে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকান্ডের পর মানুষের আন্দোলন – সকল প্রকার ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে আমাদের কমিউনিটিসমূহের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর গুরুত্ব ৪০ বছর পরও একি রয়েছে। ২৫ বছর বয়সী আলতাব আলী হত্যার শিকার হওয়ার কিছু দিন আগেই এসেছিলেন এদেশে। তিনি ব্রিকলেনের কাছে হানবারী স্টিটের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ শেষে বিকেল ৭ টার পর নিজ ঘরে ফেরার পথে হোয়াইটচ্যাপল পার্কের কাছে বর্ণবাদীদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান।

জাতিগত ঘৃণা থেকে সংঘটিত এই হত্যাকান্ড সেদিন টাওয়ার হ্যামলেটসের সকল কমিউনিটিকে হতবাক করেছিলো এবং জাতিগত ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলো, যা ইস্ট লন্ডনের বর্ণ-সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

পূর্ব লন্ডনে এ নির্মানাধীন একটি ভবনের নাম ‘আলতাব আলী হাউজ’ নামকরণ ফলক আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় মেয়র জন বিগস বলেন, আলতাব আলীর নামে কাউন্সিল বিল্ডিংয়ের নামকরণের ফলে তাঁর নাম বেঁচে থাকবে।
সকল প্রকার ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার বিরদ্ধে আমরা অব্যাহতভাবে রুখে দাড়াবো এবং চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় আগের এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে জানিয়ে যাবো।

আলতাব আলী হাউজ নামকরণ উন্মোচনকালে মেয়র জন বিগস এর সাথে ছিলেন স্ট্যাটুটরি ডেপুটি মেয়র ফর কমিউনিটি সেফটি, ফেইথ এন্ড ইক্যূয়েলিটিজ কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম।
আরো ছিলেন কেবিনেট মেম্বার ফর প্ল্যানিং এন্ড সোশ্যাল ইনক্লুসন কাউন্সিলর ইভ ম্যাকুইলান, কাউন্সিলর আব্দাল উল্লাহ এবং কাউন্সিলর ডেনিস জোনস উপস্থিত ছিলেন।

ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের মধ্যে আলতাব আলীর হত্যাকান্ড কখনোই ভুলে যাওয়ার নয় এবং সকল প্রকার ঘৃণা ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে টাওয়ার হ্যামলেটসের সকল কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে অনুস্মারক হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আমাদের হাউজিং লিস্টে থাকা লোকজনকে সামাজিক ভাড়ায় ঘর পাওয়াটা নিশ্চিত করতে এই উন্নয়ন প্রকল্প সাহায্য করবে। ১৮টি ফ্ল্যাট বিশিষ্ট এই ভবনের নির্মান কাজ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১, ২ ও ৩ বেডরুম বিশিষ্ট ঘরগুলো হবে ১০০ ভাগ এফোর্ডেবল হোম। থাকবে রাস্তার সমতল পর্যায়ে নতুন ল্যান্ডস্ক্যাপিং এবং এই বিল্ডিয়ের ডিজাইনে ওয়াপিংয়ের ঐতিহাসিক ওয়ার্ফ বিল্ডিংগুলোর প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

উল্লেখ্য ১৯৭৮ সালে ৪ঠা মে বর্ণবাদীদের হাতে নৃশংসভাবে নিহত বাঙালি যুবক আলতাব আলীর বাংলাদেশের বাড়ি সুনামগন্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগন্জের শাহমোল্লাতা গ্রামে। পরিবারের ৭ ভাই বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।



সাম্প্রতিক খবর

সাইমন ড্রিং-এর মৃত্যুতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির শোক

photo লন্ডনঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের আত্মদানের প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক রুবি হক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, সাইমন ড্রিং বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম বিদেশী

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment